দুধে ও মুরগীর মাংসে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল ও এন্টিবায়টিক পাওয়া যাচ্ছে কেন?

প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০১৯

এই বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছেন, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ডঃ মোহাম্মদ ফরহাদ। উনি বাংলাদেশে কৃষিতে অনার্স , মাস্টার্স করলেও, অস্ট্রেলিয়াতে এসে মানবদেহে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের প্রভাব ও ক্যানসার রোগের গবেষনার উপর মাস্টার্স ও পিএইচডি করেছেন।

এই বিষয়ে বিস্তারিত বলতে গিয়ে ডঃ মোহাম্মদ ফরহাদ বলেন- ট্যানারীর বর্জ্য দিয়ে তৈরি বা নোংরা ও অসাস্থ্যকর উপাদান দিয়ে তৈরি, সস্তা পশু খাদ্যই এর জন্য দায়ী। ট্যানারির বর্জ্যে মারাত্বক ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ কেডমিয়াম থাকে, যা মানবদেহে ক্যানসার রোগ সৃস্টি করতে পারে। আরেকটা কথা যে কোন রাসায়নিক পদার্থ ভাল করে ফুটালেও ধংস হয় না। আমার ল্যাবরেটরিতে একটানা ৭ দিন ফুটিয়েও দেখেছি, ধংস বা নিস্ক্রিয় করা যায়নি. তবে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে।

অনেকের ধারনা ফুটালে বা রান্না করলে, সব চলে যায়, এটা ভুল ধারনা। আমরা যা কিছু খাই, শরীরে বিভিন্ন পর্যায় শেষে রক্তে যায়, এবং রক্তের মাধ্যমে ব্রেন সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এভাবেই খাবার সরবরাহ করে। ফরমালিনযুক্ত মাছ কিংবা ফল অথবা ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ সম্বলিত মুরগীর মাংস কিংবা দুধ খাওয়ার পর, শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে, খাবারের সাথে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ রক্তে চলে যাচ্ছে এবং রক্তের মাধ্যমে ব্রেনসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ চলে যাচ্ছে এবং শরীরের ক্ষতিসাধন করছে।

কিভাবে ক্ষতি করছে?

ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থগুলি আমাদের শরীরের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোষগুলিকে দূর্বল করে দিচ্ছে, ধংস করে দিচ্ছে, অস্বাভাবিক গঠন ও অস্বাভাবিক পরিবর্তন এনে দিচ্ছে।

শরীরের কোন এক বা একাধিক অংশে স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করছে। আমাদের কোষের ভিতর ক্রোমোজোম এবং ক্রোমোজোম এর ভিতর DNA থাকে এবং DNA এর গঠনই বহু জিনের সমন্বয়ে, যেখানে সুশৃণ্খলভাবে বহু জিন থাকে।

জিনগুলোর স্বাভাবিক অবস্থান, সমন্নয়, আমাদের স্বাভাবিক রাখে এবং আমরা সুস্থতা নিয়ে সুন্দর জীবন যাপন করতে পারছি. এই জিনগুলাই শরীরে সব কিছু নিয়ন্ত্রন করছে কথা বলতে পারা, কানে শোনা, চোখে দেখতে পাওয়া, তেমনি শরীরের ভিতরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। খাবারের সাথে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ শরীরে প্রবেশের পর DNA এর ক্ষতিসাধন করছে সেইসাথে জিনগুলোর সমন্নয় নস্ট করছে, জিন ভেঙ্গে গিয়ে ভুল ও ক্ষতিকর সমন্নয় তৈরি করছে।

যার ফলে শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়াসহ নানা রকম শারীরিক জটিলতা, কোন কোন অঙ্গের কার্য ক্ষমতা কমে যাওয়া থেকে শুরু করে বিকল হয়ে যেতে। যেমন লিভার, কিডনি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া, চোখের দৃস্টি শক্তি কমে আসা।

এমন ও হতে পারে যে, আপনার জিন ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পরও কোন ত্রুটি ধরা পরছে না. সে ক্ষেত্রেও আপনার পরবর্তি ২-৩ জেনারেশন পর্যন্ত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে জন্ম নিতে পারে।

আবার দেখা যায়, শরীরে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ প্রবেশের ফলে শরীরের কোষগুলো ধংস হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিংবা অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত মাল্টিপ্লাই হতে থাকে.
শরীরের কোষগুলোর এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিই ক্যানসার এর ইংগিত দিচ্ছে. এ অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে পারলেই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়।

পশু খাদ্যগুলি যেন স্বাস্থ্য সম্মত হয়, এ ব্যাপারে কঠিনভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারলেই সাস্থ্য সম্মত দুধ ও মুরগীর মাংস পাওয়া যাবে।

একজন বিশেষজ্ঞ হিসাবে, আমি সচেতমূলক পরামর্শ দেয়ার চেস্টা করেছি । এখন আপনি কিভাবে চলবেন, পছন্দ আপনার।