ড্রেন নির্মাণে গাফিলাতি ভোগান্তিতে পৌরবাসী

প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০১৯

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ- ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈল পৌরসভার মুল শহরের মহাসড়ক ঘেঁষে জাপান বাংলাদেশ করপোরেশন জাইকার অর্থায়ানে আর সিসি ড্রেন কাম ফুটপাত নির্মাণে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলাতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে পৌরবাসীসহ শহরের ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও যান চলাচলসহ সাধারণ মানুষের চলাচলেও বেগ পেতে হচ্ছে। এমনকি সামান্য বৃষ্টি হলেই তা মহাসড়কের উপর থাকছে নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় সে সময় আরো ভোগান্তিতে পড়ছে পথচারীসহ পৌরবাসী।

এদিকে চুক্তি অনুযায়ী ড্রেন নির্মাণের সময় শেষ করে সময় বাড়িয়ে নিয়েও ড্রেনের কাজ সর্ম্পণ্ করতে পারে নি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে পৌরশহরের মুল বাজারে ড্রেন নির্মাণের নামে ব্যবসায়ী ও সুবিধাভোগীরা চলাচলের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
পৌরবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে বর্তমান পৌর মেয়র আলমগীর সরকার ড্রেনের ব্যবস্থা করে দিলেও মুলত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে আমরা পৌরবাসীসহ শহরের প্রায় পাচঁহাজার শিক্ষার্থীর রাণীশংকৈল ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত ভাবেই এমন ভোগান্তিতে পড়েছে।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে পৌর শহরের চাদনী এলাকা থেকে বন্দর চৌরাস্তা পর্যন্ত নির্মাণাধীন ড্রেনে গিয়ে দেখা যায়, কোথাও ড্রেন নির্মাণ হয়েছে কোথাও আবার ড্রেন নির্মাণের জন্য প্রায় গড়ে ৪ থেকে ৮ফিট গভীর গর্ত করে দিনের পর দিন ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও আবার রড লাইন লাইন করে দাড় করিয়ে সিসি ঢালাই দিয়ে শুধু মাত্র রড তার দিয়ে বেধে। কোথাও আবার রডগুলো শুধু দাড় করিয়ে রাখা হয়েছে । ড্রেনের গর্তগুলো বেশিরভাগই ব্যসায়ীদের প্রতিষ্ঠান ঘেষে খনন করা হয়েছে।
এতে ব্যবসায়ীদের দোকান থেকে পরের সমতল স্থান প্রায় ৪ফিটে গিয়ে ঠেকেছে ব্যবসায়ীরা উপায় না পেয়ে কাঠের মাঁচা তৈরী করে তার উপর দিয়ে কাস্টমারদের তাদের প্রতিষ্ঠানে আসার ব্যবস্থা করেছে যা অত্যন্ত বিপদ জনক জেনেও এছাড়া কিছুই করার নেই বলে মন্তব্য দোকানদারদের। তবে এধরনের চিত্রটি বেশির ভাগেই ব্যস্ততম ও ব্যসায়ীদের দোকানে ভুরপুর বন্দর চৌরাস্তা বাজার এলাকায় দেখা গেছে।এছাড়াও খননকৃত গর্তের মাটিগুলো থেকে যানবাহন চলাচলের সময় ব্যাপক ভাবে ধুলাবালুর সৃষ্টি হচ্ছে।

পৌরসভা সুত্রে জানা যায়, জাইকার অর্থায়ানে এম এইচ করপোরেশন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় চাদনী থেকে মুক্তা হল ও পাইলট স্কুল রাস্তা ঘেষে ৭৩৫ মিটার ড্রেন নির্মাণের কাজ চুক্তি করে পাশাপাশি মঈন এন্টারপ্রাইজ প্রায় ৪৫ লাখ টাকায় ৩৪৫ মিটার ড্রেন কাম ফুটপাত মুক্তা হল থেকে বন্দর বড় ব্রিজ পর্যন্ত নির্মাণের চুক্তি করে। এই দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা ছিলো ২০১৮ হতে ২০১৯ সালের জুন মাসের মধ্যে। অথচ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো ড্রেন নির্মাণ না হওয়ায় চরম ভোগান্তি পড়েছে পৌরবাসীসহ দোকানদাররা।

জাইকার নগর প্রকৌশলী রাশেদুল আলম বলেন, আমরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোকে বার বার তাগাদা দিচ্ছি তারা তাদের নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।