রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৭ বছর : চাপা ক্ষোভ ও কান্নায় স্মরণ

অনলাইন ডেস্ক অনলাইন ডেস্ক

সৃষ্টিবার্তা ডটকম

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২০

সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে এক হাজার ৩৬ জনের মৃত্যুর সাত বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল শুক্রবার। করোনা সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতেও দিনটি পালন উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এ বছরও চাপা ক্ষোভ, কান্না আর হাহাকারের মধ্য দিয়ে নিহতদের স্মরণ করেছে সবাই।

করোনাজনিত পরিস্থিতিতে দিবসটি উপলক্ষে কোনো কর্মসূচি ছিল না শ্রমিক সংগঠনগুলোর। তা ছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ঝুঁকি এড়াতে পুরো এলাকায় গতকাল লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সংক্ষিপ্ত পরিসরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ধসে পড়া ভবনের সামনে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে সকালে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আহত শ্রমিক ও নিহতদের স্বজন, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

গতকাল সকালে শহীদদের অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ঢাকা জেলা পুলিশ, সাভার মডেল থানা, আশুলিয়া থানা ও শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, করোনাভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে দেশ, জাতি ও শ্রমিকদের কল্যাণের স্বার্থে রানা প্লাজার সামনে সব কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সব শ্রমিক নিজেদের ঘরে বসে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন এবং দোয়া ও মোনাজাত করবেন। করোনা প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ জানান, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এদিন মানববন্ধন ও কোনো সভা-সমাবশে না করার জন্য বারবার মাইকিং করা হয়েছে। লকডাউন করা হয়েছে পৌর এলাকা। সব শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দিনটি উপলক্ষে গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির ডাকে রানা প্লাজার নিহতদের স্বজন, আহত শ্রমিকসহ বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকরা যার যার অবস্থান থেকে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। তাদের কারও হাতে ছিল স্বজনের ছবি, কারও হাতে ছিল ‘আমরা তোমাদের ভুলব না’, দোষীদের ছাড়ব না’, ‘সংখ্যা নয় প্রাণ’ এমন বক্তব্যসংবলিত প্ল্যাকার্ড-ব্যানার। এ কর্মসূচিতে অংশ নেন নিহত ফজলে রাব্বীর মা রাহেলা খাতুন, আহত শ্রমিক ইয়ানুর, আহত শ্রমিক রূপালী আক্তার, নিহত সনজিত দাসের মা-বাবা শূন্যবালা দাস এবং সত্যজিৎ দাস, নিহত সাহিদার বাবা হোসেন মিয়া, নিহত শাওনের বাবা আজিজ মিয়া, নিহত শান্তনার বোন সেলিনা আক্তার, নিহত বেবী আক্তারের স্বামী ও কন্যাসহ অনেকে।

শ্রমিক নেতারা বলেন, সাত বছর পেরিয়ে গেলেও রানা প্লাজা ধসের জন্য প্রকৃত দায়ীদের বিচার এখনও হয়নি। আহত শ্রমিকরা নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে করোনাভাইরাসের এ পরিস্থিতিতে আরও বেশি কষ্টের মধ্যে পড়েছেন। ছাঁটাই ও লে-অফের ঘটনাকে মালিকদের ‘অমানবিক আচরণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বক্তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসায় ক্ষতির কথা বলে দেশের অর্থনীতির প্রাণ শ্রমিকদের প্রতি দায়িত্বে অবহেলা করলে তাতে শিল্পেরই ক্ষতি হবে।

অন্যদিকে ‘রানা প্লাজা ধসের ৭ বছর : করোনা ঝুঁকি এবং শ্রমিকের অধিকার’ শীর্ষক এক আলোচনায় বক্তারা বলেন, রানা প্লাজা যেমন শ্রমিকদের জীবনে বিরাট একটি ধাক্কা ছিল, তেমনি করোনাভাইরাসের প্রভাবও শ্রমিকদের জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে আসছে। সরকারের উচিত, দ্রুত সোহেল রানার শাস্তি দেওয়া এবং করোনাকালে দূরে না ঠেলে তিনটি পক্ষ মিলে শ্রমিকদের দায়িত্ব নেওয়া।