২ টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ২টি রিপার বিতরণ করা হয়

অর্ধেক ভর্তুকিতে কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার পেয়ে খুশি নকলার কৃষক

অনলাইন ডেস্ক অনলাইন ডেস্ক

সৃষ্টিবার্তা ডটকম

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২০

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের নকলায় মোট মূল্যের সরকারি তরফ থেকে অর্ধেক ভর্তুকি মূল্যে কৃষকদের মাঝে ২টি কম্বাইন হারভেস্টার ও ২টি রিপার বিতরণ করা হয়েছে। অর্ধেক ভর্তুকি মূল্যে এসকল আধুনিক যন্ত্র পেয়ে কৃষকরা খুব খুশি। ২৬ এপ্রিল দুপুরের দিকে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে কৃষকদের হাতে এসব তুলে দেওয়া হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালন বাজেটের আওতায় কৃষকদের মাঝে এসব আধুনিক যন্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে।

এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সারোয়ার আলম তালুকদার, উপজেলা কৃষি অফিসার (ইউএও) কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আবুল মনসুর, রিহিলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন, সরকারি তরফ থেকে অর্ধেক ভর্তুকি মূল্যে কম্বাইন হারভেস্টার প্রাপ্ত গনপদ্দী ইউনিয়নের বিহারীপাড় এলাকার কৃষক আব্দুল জলিল আকন্দ ও নকলা পৌরসভার ইশিবপুর এলাকার মামুন আকন্দ, রিপার প্রাপ্ত কৃষকরা হলেন উরফা ইউনিয়নের পিছলাকুড়ী এলাকার কৃষক মো. জহির উদ্দিন ও তারাকান্দা গ্রামের কৃষক মো. হামিদুল ইসলামসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি কম্বাইন হারভেস্টার এর বাজার মূল্য ২৮ লাখ টাকা এবং রিপার এর বাজার মূল্য এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। এসব আধুনিক যন্ত্রে সরকার কৃষকদের অর্ধেক মূল্য ভর্তুকি দিয়েছে। এতে প্রতিটি কম্বাইন হারভেস্টারের বিপরীতে ১৪ লাখ টাকা এবং প্রতিটি রিপারের বিপরীতে ৯০ হাজার টাকা জমা দিয়ে কৃষকরা এসব অত্যাধুনিত কৃষিযন্ত্র নিজের মালিকানা হিসেবে পেয়েছেন। তিনি আরও জানান, জাপানী প্রযুক্তিতে তৈরী করা সেন্সরবিশিষ্ট ইয়ানমার মডেলের কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার গুলো এসিআই মটরস দেশব্যাপী বাজারে নিয়ে এসছে। ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকটের কথা বিবেচনা রেখে এসিআই মটরস এসক আধুনিক কৃষিযন্ত্র বাজার জাত করেছে।

বিভিন্ন তথ্য মতে জানা গেছে, ধান ও গম কাটার মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চরম শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। ফলে ফসল কাটতে কৃষকের বাড়তি ব্যয় করতে হয়। এতে ফসল উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায়। এ সমস্যা সমাধানে ইয়ানমার কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আধুনিক সেন্সরবিশিষ্ট ইয়ানমার কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে একসাথে ধান ও গম কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও প্যাকেটজাত করা যাবে। এই যন্ত্র দিয়ে কাদাযুক্ত জমি ও শুয়ে পড়া ধান কাটা থেকে শুরু করে প্যাকেটজাত করা সম্ভব।

উপজেলা কৃষি অফিসার (ইউএও) কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস জানান, কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ঘন্টায় এক একর জমির ধান বা গম কাটা যায়। প্রতি একরে ৭ লিটার থেকে ৮ লিটার ডিজেল জ্বালানি হিসেবে খরচ হয়। হারভেস্টার দিয়ে দিনে ৮ একর থেকে ১০ একর জমির ধান বা গম ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও প্যাকেটজাত করা যায়। এতে ধান-গম কাটা থেকে শুরু করে বস্তা বন্ধী করা পর্যন্ত কৃষকদের খরচ বাঁচে প্রায় ৬০ ভাগ এবং ৭০ ভাগ শ্রম কম লাগে। এর ট্যাংকিতে ১৫ মন ধান একসাথে রাখা যায়। কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে কম শ্রমিক দিয়ে একই সঙ্গে ধান কাটা, মাড়াই, পরিস্কার ও প্যাকেটজাত করা সম্ভব হওয়ায় কৃষকদের কাছে আধুনিক এ যন্ত্রের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। অন্যদিকে, মিনি কম্বাইন হারভেস্টারের চাহিদা খুব বেশি। কারন এটির বাজার মূল্য ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এতে সরকারের দিক থেকে ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হয়। ফলে মেশিনটি ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় মাঝারি শ্রেণির কৃষকরা কিনতে পারেন। তাছাড়া ধান বা গম কাটার সহজ লভ্য অন্য এক কৃষি যন্ত্র রিপার। রিপার দিয়ে এক বিঘা (৩৩ শতক) জমির ধান বা গম কাটতে সময় লাগে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট। ফলে ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা ব্যায়ে এক বিঘা জমির ধান কাটা সম্ভব। এর দামটাও সকল কৃষকের নাগালের ভিতরে। এটির বাজার মূল্য এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিপার দিয়ে এতে সরকারের দিক থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হয়। তাই মিনি কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপারের ক্রয়ের প্রতি কৃষকরে ঝুঁক বেশি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের সকল কৃষকরে হাতে এসব আধুনিক যন্ত্র পৌঁছে যাবে বলে বিভিন্ন স্তরের কৃষি অফিসারসহ কৃষকরা আশা করছেন।

প্রচলিত পদ্ধতিতে এক একর জমির ধান বা গম কাটতে যেখানে খরচ হয় ৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা; সেখানে মিনি কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারে ব্যয় মাত্র ৪০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা। এটি অল্প কাদার মধ্যেও ব্যবহার করা যায়। সেই সাথে এই মেশিন দিয়ে কাটার পর খড় নষ্ট হয়না। তাই মিনি কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপারের চাদিহা খুব বেশি বলে অনেকে জানান।