ঈশ্বরদীতে সরকারি চাল সংগ্রহে টনপ্রতি ১০০ টাকা ঘুষ

অনলাইন ডেস্ক অনলাইন ডেস্ক

সৃষ্টিবার্তা ডটকম

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২০

সরকারের চাল সংগ্রহের তালিকা তৈরিতে ঈশ্বরদীতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ধান ভাঙানো মিল, মিলের বয়লার অথবা চাতাল কোনোটাই নেই, দীর্ঘদিন ধরে চালকলে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, কয়েক বছর ধরে বন্ধ হয়ে যাওয়া চালকল এবং এখনও চালুই হয়নি- এসব চালকলকেও এবার সরকারি চাল সরবরাহ করার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

ঈশ্বরদীর চাল মোকামের ৬০ থেকে ৭০টি চালকলের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগ গেছে দুদকে। অবশ্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন এস কাইয়ুম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারি নিয়ম-কানুন অনুসরণ করেই ঈশ্বরদী উপজেলায় ৪২৫টি চালকলকে চাল সরবরাহ করার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীর ৪২৫টি চালকলকে ১৫ হাজার ১৬২ টন চাল সরবরাহ করার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

চালকল মালিকদের অভিযোগ, অটোরাইস মিল মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ঈশ্বরদী চালকল মালিকদের যোগসাজেশে পাবনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইকবাল বাহার চৌধুরী এই তালিকা চূড়ান্ত করেছেন। তাকে সহযোগিতা করেছেন ঈশ্বরদী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন এস কাইয়ুম। টন প্রতি ১০০ টাকা না দিলে ঈশ্বরদী খাদ্যগুদাম ও মুলাডুলি কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহের অনুমতিও দেন না তারা।

ঈশ্বরদীতে সরকার ঘোষিত চাল সংগ্রহ অভিযানে চাল বরাদ্দ ও মিলের নাম তালিকাভুক্ত করা নিয়ে জেলা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন বলে দুদকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। খোঁজ নিয়ে এ অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে।

ঈশ্বরদীর চাল মোকাম আইকে রোডের মেসার্স রেদওয়ান এন্টারপ্রাইজের মালিক মিজানুর রহমান মহলদার দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগে জানান, সরকারের খাদ্য সংগ্রহের আওতায় ঈশ্বরদীর যে ৪২৫ মিলারকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, তার মধ্যে অধিকাংশ মিলেরই বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও বন্ধ ঘোষিত মিলকেও চাল উৎপাদন করে খাদ্যগুদামে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

দেখা গেছে, মানিকনগর গ্রামের মন্ডল অ্যাগ্রোফুড নামের একটি অটোরাইস মিল কয়েক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। অথচ পরিত্যক্ত এই মিলকে ৪৩৮ দশমিক ৭৫০ মেট্রিক টন চাল সরবরাহ করার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে মুলাডুলি ইউনিয়নের শেখপাড়ার মেসার্স সাজ অটোরাইস মিল, চকনারিচার মেসার্স খান অটোরাইস মিল এখনও চালুই হয়নি। অথচ তাদের নামও তালিকাভুক্ত করে ১০২ দশমিক ০৬০ টন করে চাল সরবরাহ করার জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সাহাপুরের মেসার্স আরাখা চালকলসহ বেশ কয়েকটি চালকল যেগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ, বয়লার নেই, সেগুলোর নামও তালিকায় রেখেছেন ঈশ্বরদী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন।

অভিযোগে বলা হয়, ঈশ্বরদীর ৬০-৭০ মিল মালিকের নামে বিপুল অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে চাল সরবরাহের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

চালকল মালিক মিজানুর রহমান মহলদার বলেন, গত বছর আমার চালকলের নাম তালিকায় ছিল অথচ এবার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন এস কাইয়ুমকে ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় আমার মিলের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুন এস কাইয়ুম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারি নিয়ম-কানুন অনুসরণ করেই ঈশ্বরদী উপজেলায় ৪২৫টি চালকলকে চাল সরবরাহ করার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, সার্ভে করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে চালকলের তালিকা বিভাজন করা হয়েছে। এখনও চাল বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। এ ধরনের অভিযোগ হলে পুনরায় তদন্ত করে তালিকা পরিবর্তন করা যেতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিহাব রায়হান বলেন, সরকারের খাদ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে কেউ দুর্নীতির আশ্রয় নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।