গৃহকর্মীকে ধর্ষণের পর হত্যা; সেই চেয়ারম্যানের ফাঁসির দাবি এলাকাবাসীর

অনলাইন ডেস্ক অনলাইন ডেস্ক

সৃষ্টিবার্তা ডটকম

প্রকাশিত: মে ১৬, ২০২০

সাইফুল আরিফ জুয়েল, নেত্রকোনা: নেত্রকোনার বারহাট্টার সিংধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মাহবুব কাঞ্চন তার কিশোরী গৃহকর্মীকে ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে এমন অভিযোগে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের আলোকদিয়া ব্রিজ সংলপ্ন রাস্তায় দাড়িয়ে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ কাঞ্চনের ফাঁসির দাবিতে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

এ সময় মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরাসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেয়।

মানববন্ধনকারীরা বলেন, এটি একটি শিশু হত্যা, তার উপর গৃহকর্মী। মানুষ জনপ্রতিনিধিদের কাছে নিরাপত্তা খোঁজে আর সেখানে যদি তাদের কাছেই শিশুরাও অনিরাপদ থাকে তাহলে আমরা যাবো কোথায়।

অবিলম্বে তারা এই চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে তাকে চেয়ারম্যান থেকে অব্যাহতি প্রদানের আল্টিমেটাম দেয়।

এদিকে চেয়ারম্যানের লোকজন মানববন্ধনে বাধা দিলে কয়েকমিনিটে তারা মানববন্ধন শেষ করে দেন।

মানববন্ধনকারীরা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান মোর্শেদ কাঞ্চনের ঘনিষ্ঠ আলোকদিয়া গ্রামের তাহের মিয়া ছেলে রহিম মিয়া, আনোয়ার আলী মাস্টারের ছেলে স্বপন মিয়া ও ধনপুর গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে মোতাহার মিয়া মানববন্ধনে বাধা দেয়। কাঞ্চন চেয়ারম্যানকে ‘ভাল মানুষ’ ও ‘নিদোর্ষ’ দাবি করে তারা মানববন্ধনকারীদেরকে গালাগাল করেন ও মারধরের হুমকি দেয়।

গত ৯ মে শনিবার বিকালে বারহাট্টার সিংধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মাহবুব মোর্শেদ কাঞ্চনের মোহনগঞ্জের বাসায় রহস্যজনক মৃত্যু হয় গৃহকর্মী মারুফা আক্তারের। ফাঁস লেগে আত্মহত্যা করেছে বলে জানালেও পুলিশকে না জানিয়ে চেয়ারম্যান নিজেই মারুফার লাশ নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান। গৃহকর্মী মারুফার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে এবং বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে নিহতের মায়ের আবেদনে ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে ১১ মে সোমবার মারুফার মা আকলিমা আক্তার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ওইদিনই মামলা নিয়ে চেয়ারম্যানকে আটক করে মোহনগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে ১২ মে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। এর দুইদিন পর ১৪ মে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বের হন চেয়ারম্যান কাঞ্চন।

এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের শাস্তির দাবিতে পুরো জেলা জুড়েই বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে নিন্দার ঝর উঠে। পরে শিশুটির শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন দেখে সঠিক বিচার দাবি করেন জেলাবাসী। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়ে নিজেই তদন্ত করতে নামেন পুলিশ সুপার।

অন্যদিকে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জণ ওঠে সরকারি সাবেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার আত্মীয় পরিচয়ে এই চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে এসকল অপকর্ম করে যাচ্ছেন এলাকায়। তিনি বারহাট্টা উপজেলায় অফিস না করে মোহনগঞ্জ বাসার পাশে একটি দোকানে বসে পরিষদের কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। এতে ওই ইউনিয়নবাসীর নানা বেগ পোহাতে হয়। কোন কাজে তাদেরকে এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলা পর্যন্ত আসতে হয়।

এছাড়াও বিভিন্ন অপকর্মে গত ২০১৯ সনে চেয়ারম্যানকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

নানা ঘটনা তিনি ঘটিয়ে যাচ্ছেন প্রভাব খাটিয়ে এমন অভিযোগ এলাকার ছোট বড় প্রতিটি মানুষের। এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের ভাইটাল পদ নিয়ে তিনি এহেন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।