সুপরিকল্পিতভাবে ঋণের নাটক সাজিয়ে ফারমার্স ব্যাংকের টাকা লোপাট করেন সাবেক প্রধান বিচারপরি এস কে সিনহাসহ ১১ আসামি। আদালতে এমনটাই বললেন রাষ্ট্রপক্ষের তিন সাক্ষী। এদিন আদালতে পেশ করা হয় সিনহাসহ আসামিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় নথি ও জব্দ তালিকা।
সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার দুর্নীতির মামলায় মঙ্গলবার আদালতে সাক্ষ্য দেন রাষ্ট্রপক্ষের তিন সাক্ষী। এদের মধ্যে দু’জন ফারমার্স ব্যাংকের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা এবং অপরজন দুদক কর্মকর্তা। তারা আদালতকে বলেন, ঋণ নেয়া আর অর্থ আত্মসাৎ পুরোটাই ছিলো পরিকল্পিত। ঋণ পেতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা নিজের পদ আর ক্ষমতার জোর খাটান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ডকুমেন্টস-তো ক্লিলার; উনার অ্যাকাউন্টে টাকাগুলো গেল কীভাবে। লোন অ্যাপ্লাই করলো শাহাজাহান ও নিরঞ্জন। তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে পে-অর্ডার হলো সেখান থেকে এস কে সিনহার অ্যাকাউন্টে চলে গেল। এটা ক্লিয়ার উনি এটার সাথে জড়িত। আর এটা করে তিনি ক্ষান্ত হননি; টাকাগুলোও বণ্টন করেছেন তার ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে।
এদিকে এ মামলার জামিনে থাকা দুই আসামি পুরো দায় চাপালেন সাবেক প্রধান বিচারপতির ওপরই।
আসামি পক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি টিটু বলেন, অন্য কোন আসামি তাদেরকে ভুল বুঝিয়ে একাজগুলো করেছে। সেটি স্পষ্ট; অভিযোগপত্রে উল্লেখ্য করা হয়েছে। শাহাজাহান এবং নিরঞ্জন চন্দ্র শাহের যে অ্যাকাউন্ট সিগনেচার কার্ড ও লোন আবেদনে কাগজপত্র এবং যে প্লে-অর্ডার হয়েছে; সেইগুলো আদালতে জমা করা হয়েছে।
এদিন একই সঙ্গে মামলার ১১ আসামির ব্যাংক লেনদেনসহ যাবতীয় নথি ও প্রমাণপত্র আদালতের কাছে জমা দেয়া হয়। এ মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেবেন আদালত। আগামী পহেলা সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য হয়েছে। এ মামলায় এসকে সিনহাসহ ৪ আসামী পলাতক। জামিনে আছেন ৬ আসামি। আর কারাগারে আছেন ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির চেয়ারম্যান বাবুল চিশতী।