যে মা-বাবা সন্তানকে জন্ম দিয়ে বড় করে তুলেছেন, সেই মা-বাবাকে অত্যাচার করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন ছেলে।
ফলে বার্ধক্য জীবনে এসে জরাজীর্ণ রান্নাঘরে বসবাস করছেন অসহায় বৃদ্ধ মা-বাবা। মা-বাবাকে বাড়িছাড়া করে ক্ষান্ত হয়নি ছেলে; শায়েস্তা করতে বাবার বিরুদ্ধে দিয়েছেন দুটি চেক ডিসঅনারের মিথ্যা মামলা। এ ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের চৌগাছা উপজেলার নগরবর্ণি গ্রামে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেস ক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী বাবা আব্দুল বারিক ও মা ছায়রা খাতুন। অভিযুক্ত ছেলে আক্তারুজ্জামান আব্দুল বারিকের তিন সন্তানদের মধ্যে সবার বড়। বাকি দুই সন্তানের মধ্যে মেজো মেয়ে শহরে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং ছোট ছেলে প্রবাসী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুর বারিক বুধবার অভিযুক্ত ছেলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ হুমকির অভিযোগে যশোর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছে। বিচারক বিষয়টি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল বারিক লিখিত বক্তব্যে বলেন, তিন সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান আক্তারুজ্জামান। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে নানাভাবে শারিরীক ও মানসিক ভাবে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে অত্যাচার নির্যাতন করে আসছে। আক্তারুজ্জামান বিদেশ থেকে এসে একটা বাড়ি তৈরি করে সেই বাড়িতে আমরা সবাই এক সঙ্গে থাকতাম। কিন্তু সে প্রায়ই আমাদের টাকা আর সম্পত্তির জন্য মারধর করত। এক পর্যায়ে মারধর করে তাড়িয়ে দিলে পাশেই পুরোনো একটি বাড়ির রান্নাঘরে আমরা দুজন দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছি। এখানে এসেও আমাদের মারধর করছে টাকার জন্য। আমার বয়স ৭০ হয়েছে। এ বয়সে এসে আমরা আর মারধর সহ্য করতে পারছি না।
লিখিত বক্তব্য আরও জানানো হয়, আমাদেরকে আবার নতুন করে ফাঁদে ফেলেছে আক্তারুজ্জামান। প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে আমার অ্যাকাউন্টে টাকা আসবে বলে দুটি চেক সই করিয়ে দেয়। সেই অ্যাকাউন্টের ৩০ লাখ ও ৪০ লাখ টাকার দুটি চেক ডিসঅনারের মিথ্যা মামলা দিয়েছে সে।
ইতিপূর্বে আমি আমার চার বিঘা দশ শতক জমি, দশ শতক মেহগনি বাগান বিক্রি ও পাঁচ বিঘা জমি বন্ধক রেখে তাকে টাকা দিয়েছি। তারপরেও টাকা শেষ হয়ে গেলেই আমাদের মারধর করে। এসব সহ্য করতে না পেরে চৌগাছা থানা তিনবার অভিযোগ করেছি। তাতেও কোনো কাজ হয়নি। শেষে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা ছায়রা খাতুন বলেন, ‘এই দুই বৃদ্ধ থানা পুলিশ-আদালতে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। তার মা হয়েও আমি মারধর খাই; এই দুঃখ কোথায় বলব।
মিথ্যা মামলা আর সন্তানের নির্যাতন থেকে রেহাই পেতে সাংবাদিকদের প্রতি দুই হাত মিনতি করে বৃদ্ধ বারিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বড় ছেলে কোনো কাজকর্ম করে না। সে আমার সব সম্পদ একা ভোগ করার জন্য এসব করছে। সে খুন করার হুমকি দিচ্ছে। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এর বিচার চাই। আমরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আক্তারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, আমার বাবা মানসিকভাবে অসুস্থ।
তাই বাবা এসব করে বেড়াচ্ছেন। তাদের কাউকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়নি, তারা চলে গেছেন। তিনি জানান, আমি বিদেশ থাকাকালীন আমার বেতনের টাকা সব মা-বাবার কাছে পাঠিয়েছি। তারা এখন কেউ সেই টাকার হিসাব দিতে পারছে না। এ জন্য মা-বাবা আমার বিরুদ্ধে সব মিথ্যা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। আমিও মামলা করেছি, আদালতের দিকে তাকিয়ে আছি। আদালতই বিচার করবেন।