নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নে এক শিশুকে (৭) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চরহাছান গ্রামের আব্দুল হক কাজী (৫৮) পলাতক রয়েছে। অভিযুক্ত আব্দুল হক কাজী চরহাছান গ্রামের দায়মুদ্দিন কাজীর ছেলে আব্দুল হক কাজী।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত পর্যন্ত ধর্ষককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিশুটির পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে শিশু শ্রেণির ওই ছাত্রী তাদের পাশের বাড়ির শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। এসময়, প্রতিবেশী আবদুল হক কাজী তাকে বিস্কুট দেয়ার কথা বলে তার ঘরে নিয়ে যায়। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটির মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে আব্দুল হক। এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে হত্যা করারও হুমকি দেয় সে।
রক্তাক্ত শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি গিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়। এরপর শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে ওই ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য (মেম্বার) ফজিলাতুন নেসাকে জানালে তিনি বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে দেয়া হবে বলে তাদের জানান। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শিশুর বাবা চরজব্বার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম মাস্টারের কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানালে তিনি রাতেই চরজব্বার থানায় শিশুটি ও তার পরিবারকে পাঠিয়ে দেন। ওই রাতেই শিশুর বাবা বাদী হয়ে আব্দুল হক কাজীকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে জানতে নারী ইউপি সদস্য ফজিলাতুন নেসাকে ফোন করা হলে তার স্বামী রিসিভ করে জানান তার স্ত্রী (মহিলা মেম্বার) এখন বাড়িতে নেই।
চরজব্বার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নারী ইউপি সদস্যকে জানানোর পরও তিনি ঘটনাটি সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসা করার কথা বলে শিশুটির পরিবারকে মামলা করতে দেননি। পরে রাতে তিনি বিষয়টি শুনে সঙ্গে সঙ্গে থানায় পাঠিয়ে ওসিকে মামলা নেয়ার অনুরোধ করেন।
চরজব্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইব্রাহীম খলিল জানান, শিশুটিকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ধর্ষক পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।