মহাআনন্দে কাওয়াদিঘি হাওরের বুকে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার দশটি প্রতিযোগী দল অংশ নেয়। এ নৌকা বাইচকে ঘিরে অনেকদিন পর উৎসবের আমেজ ছিলো কাওয়াদিঘি হাওর পাড়ের হাজারো মানুষের মাঝে।
শুক্রবার পড়ন্ত বিকালে কাওয়াদিঘি হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশির বুক চিরে এগিয়ে চলছে- কালাশাহ্, সোনাই মিয়া ও তাহের মিয়াসহ দশটি জলপবনের তরি। ভাসমান নৌকায় বসে সব-বয়সী হাজারো নারী পুরুষ – উপভোগ করেন এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।
অনেকদিন পর এ নৌকা বাইচ প্রাণের স্পন্দন ছড়িয়ে দিলো হাওর পাড়ের মানুষজনের মাঝে। মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলা থেকে দশটি বাইচের নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন মাঝি মাল্লারা।
প্রতিযোগিতা হয় পাঁচটি ধাপে, চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয় তিনটি দল। বাঁশির হুশেল পড়ার সাথে সাথেই, প্রতিযোগীরা ছোটান নিজ নিজ নৌকা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢোল কাঁসার সঙ্গে মাঝিদের হৈ হৈয়া শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠে গোটা এলাকা। আর শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষজন, উৎসব থেকে বাদ যায় নি কেউ-ই। নেচে গেয়ে তারা সবাই উৎসাহিত করেন বাইচের প্রতিযোগী দলকে। সঙ্গে জানান তাদের উচ্ছ্বাস আর আনন্দের কথা। কাওয়াদিঘি হাওরের পশ্চিম দিক থেকের ফাটাসিংরা বিল থেকে পূর্ব দিকের কালাইকুড়া পর্যন্ত চার কিলোমিটার এ নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়েছিলো।
এদিকে, আয়োজনকারী সংস্থা কালাইকুড়া-বিরাইমাবাদ যুব সংঘের আহ্বায়ক জুবেল খান উপস্থিত এ প্রচুর দর্শকদের আনন্দ দিতে পেরে তিনি মহাখুশি। সেই সাথে আগামীতে আরও বর্ধিত আকারে নৌকা বাইচ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিলেন। তাছাড়া একাটুনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এ হাওরে প্রতি বছর নৌকা বাইচ আয়োজন করার প্রতিশ্রুতি দেন। যুব সংঘের সদস্য ও আখাইলকুড়া ইউনিয়ন পরিসদের চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ আগামী আরও সুন্দর আয়োজন হয় তার চেষ্টা থাকবে বলে জানান।
এবারের প্রতিযোগিতায় মেদিনীমহলের সোনাই মিয়ার নৌকা প্রথম, দ্বিতীয় কালাশাহের নৌকা ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার উলুয়াই গ্রামের তাহের মিয়ার নৌকা। পরে সবাইকে পুরস্কৃত করা হয়।