মাদারীপুরের রাজৈরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র দুইপক্ষের সংঘর্ষে চার পুলিশসহ আহত হয়েছে অন্তত ৩৮ জন। ঘটনাস্থল থেকে নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত নয়টার দিকে রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়নের মাছচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশরা হলেন, এএসআই এনায়েত হোসেন, কনস্টেবল আবুল খায়ের, বিপ্লব হোসেন, আবু সফুর। এছাড়া বাকি আহতরা হলেন, ফজলে খালাসীর ছেলে নান্নু খালাসী (৩৫), শাহজালাল খালাসীর ছেলে তুষার খালাসী (২১), আয়নাল খালাসীর ছেলে স্বপন খালাসী (১৮), শাহজাহান খালাসীর ছেলে সাজ্জাদ খালাসী (১৫) ও শান্ত খালাসী (১৫), কালাম খানের ছেলে সালাম খান (৩৫), হাবিব খানের স্ত্রী নাসিরুন বেগম (৫৫), মোরশেদ খানের ছেলে রশিদ খান (৪৫), ইদ্রিস খানের ছেলে সিরাজ খান, একতার খানের ছেলে অনিক খান (২০), কালাম খানের ছেলে শাহাদাৎ খান (৩২), মৃত মুজিবুর রহমানের ছেলে মনিরুজ্জামান (৩২), মনিরুজ্জামানের ছেলে কামরুজ্জামান (৪২), সিদ্দিক ঢালীর ছেলে বাবুল ঢালী (২৮), মোনজেদ খানের ছেলে আসাদ খান (২৯), শাহ আলম খানের স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৩০), সামাদ মাতুব্বরের ছেলে কামরুল মাতুব্বর (৩০), লোকমান শেখের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম (৩২), সবুজ খানের স্ত্রী সাবিনা বেগম (২৩)।
তাদের অধিকাংশের বাড়ি রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়নে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আধিপত্য নিয়ে মাছচর গ্রামের সান্টু খালাসী সাথে একই গ্রামের সুমন শেখের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে শনিবার সন্ধ্যায় সুমন শেখের লোকজন সান্টু খালাসীর সমর্থকদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নয় রাউন্ড ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
এ সময় চার পুলিশসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৩৮ জন আহত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শেখ সাদী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশের এএসআইসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়। এছাড়া উভয়পক্ষের আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
এ ঘটনায় রাজৈর থানা পুলিশের এসআই আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে ৮৫ ব্যক্তিকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া নয়শো থেকে এক হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। আটক নয়জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।