ads
শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন

রুপা হত্যার তিন বছর, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতে প্রতীকী মানববন্ধন

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২০
  • ২৬ বার পঠিত

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে চাঞ্চল্যকর জাকিয়া সুলতানা রুপাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার উচ্চ আদালতে দ্রুত আপিল শুনানি নিষ্পত্তির দাবিতে প্রতীকী মানববন্ধন করেছেন রুপার দুই ভাই। রুপার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে মঙ্গলবার দুপুরে রুপার দুই ভাই হাফিজুর প্রামানিক ও রুম্মান প্রামানিক তাড়াশ উপজেলা পরিষদের শহীদ মিনার চত্বরে দাঁড়িয়ে এ প্রতীকী মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অঝোরে কাঁদেন দুই ভাই।

রুপার বড় ভাই হাফিজুর রহমান বলেন, গত তিন বছরে বোনের হত্যার বিচার না পেয়ে আমার পরিবার ও সচেতন দেশবাসী হতাশ। আমার পরিবারের সম্ভবনাময় মেধাবী তরুণীর অকাল মৃত্যু হয়েছে। আমার একমাত্র কর্মক্ষম বোন রুপাকে হত্যা করায় আমরা অর্থনৈতিক দৈন্যতায় দিনাতিপাত করছি। আমরা বারবার হত্যা মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দাবি জানালেও তা আজো পুরণ হয়নি। গত আড়াই বছর যাবৎ হাইকোর্টে আপিল শুনানি ঝুলে আছে। এধরনের চাঞ্চল্যকর মামলার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে।

রুপার ছোট ভাই রুম্মান প্রামানিক বলেন, চাঞ্চল্যকর এই হত্যার বিচারের মাধ্যমে দেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন হওয়া জরুরি। যাতে করে দেশের আর কোনো মা-বোন আমার বোনের মতো নরপশুদের খপ্পরে পড়ে সম্ভ্রম ও জীবন হারাতে না হয়। বোন হারানোর বেদনা যে কতটা সেটা আমরাই বুঝি। এই বলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা শেষে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসান বাড়ী গ্রামের মৃত জেলহক প্রামানিকের মেয়ে রুপাকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। পরে চলন্ত বাসেই তাকে হত্যা করে টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে মরদেহ ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ ওই রাতেই ‘অজ্ঞাতপরিচয় নারী’ হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রুপার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়।

এঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করে। পর দিন পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে তার ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে শনাক্ত করেন। ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট এঘটনায় জড়িত অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এরপর নিম্ন আদালতে ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চার আসামির মৃত্যুদণ্ড ও একজনের সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হওয়ার পর তারা জেলে রয়েছে। তাছাড়া ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারির সকল আসামি খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করে। এরপর গত ৩৬ মাসেও চাঞ্চল্যকর রুপা গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার আপিল শুনানি শুরুই হয়নি।

সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ওয়ালি উল্লাহ
নির্বাহী সম্পাদক
নিউজ রুম :০২-৯০৩১৬৯৮
মোবাইল: 01727535354, 01758-353660
ই-মেইল: editor@sristybarta.com
© Copyright 2023 - SristyBarta.com
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102