মামলা করাই তার পেশা। কখনও নিজে, কখনও অন্যকে দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শতাধিক মামলা করেছেন তিনি। ভয়ংকর এই মামলাবাজের খপ্পড়ে পড়ে জেল খেটেছেন নিরপরাধ অনেকে। হয়েছেন নিঃস্ব। অবশেষে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে বহুরূপী প্রতারক আজিজুল হক পাটোয়ারী।
২০১৬ সালের ২৬ এপ্রিল ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে আজিজুল হক পাটোয়ারী লেখেন, ৭ম বারের মতো আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তিনি।
কিন্তু আদতে ছবিটি কারসাজি করা। অর্থাৎ অন্যের ছবি এডিট করে নিজেকে বসিয়েছেন আজিজ। উদ্দেশ্য নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে প্রচার করা।
এভাবেই কখনও সাংবাদিক, কখনও মন্ত্রী-এমপির কাছের লোক পরিচয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শতাধিক মামলা করেছেন তিনি। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে অর্থ আদায়ে দক্ষতার ফলে ভাড়াটে মামলাবাজ হিসেবেও সুনাম কুড়িয়েছে।
এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে আজিজ এবং তার ছেলে আবু ইউসুফ পাটোয়ারী মোট ১৪টি মামলা করেছেন। হয়রানির শিকার হয়েছেন ই-কমার্স ব্যবসায়ী সৈকত পালও। একই অভিযোগে সৈকতের বিরুদ্ধে রাজধানীর তিনটি থানায় মামলা করেন আজিজ।
অবশেষে গোয়েন্দা পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন এই ভয়ঙ্কর মামলাবাজ। এই চক্রের মাধ্যমে হয়রানির শিকার অন্যদেরও ডিবি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ ডিবি কর্মকর্তার।
আজিজের ২৪টি ভুয়া মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রায় সবগুলোতেই চাঁদাবাজি, মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামী ভিন্ন হলেও মামলাগুলোর স্বাক্ষী ঘুরেফিরে তার কাছের লোকেরাই।
একের পর এক মিথ্যা মামলা করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করায় প্রশ্ন উঠেছে থানা পুলিশ ও আইন-আদালতের স্বচ্ছতা নিয়েও।
#channel24bd