মৌলভীবাজারের লক্ষ-লক্ষ মানুষ প্রবাসী। জেলার ৭ উপজেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ ব্রিটেন, কানাডা, ইতালি ও আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ইউরোপে বসবাসরতদের ৮৫ ভাগই পরিবারসহ বাস করছেন। দেশে মাত্র কয়েক মাস থাকার জন্য তৈরি করে রেখেছেন বিলাস বহুল বাড়ি-গাড়ি। অথচ এসব টাকায় এই অঞ্চলে ক্ষুদ্র-মাঝারি-বৃহৎ শিল্প কারখানা স্থাপন করলে দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞদের মতামত।
শ্রীমঙ্গল লেবু ও আনারসের রাজধানী হিসেবে সারা দেশে বেশ পরিচিত। এখানে একটি ফল সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করলে পচনশীল বিপুল পরিমাণ ফল রক্ষা পাবে এবং ফল থেকে জুসসহ বিভিন্নরকম খাদ্য তৈরি সম্ভব হবে।
প্রায় দুই শতাধিক বছর পূর্বে সিলেট অঞ্চলের বিপুল মানুষ জাহাজে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। এক সময় জাহাজের শ্রমিকরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাসের জন্য আগ্রহী হয়ে উঠে। শ্রমিকরা সুবিধামত সময়ে জাহাজ থেকে লাফিয়ে সাঁতার কেটে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেয়। এভাবে বিপুল সংখ্যক মানুষ ব্রিটেনে আশ্রয় নেয়। ব্রিটিশ শাসনের শেষ দিকে এবং পাকিস্তানি শাসনের শুরুতে সিলেটের বিশাল জনগোষ্ঠী ফরম পূরণ করে নামমাত্র বিমান ভাড়ায় ব্রিটেন চলে যান। এভাবে ইউরোপে শুরু হয় তাদের কর্মসংস্থানের পথ। পরবর্তীকালে ইউরোপের অন্যান্য দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যে গমন করে বিপুল সংখ্যক মানুষ।
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পরিসংখ্যান বলছে, মৌলভীবাজারের ৫ লক্ষাধিক মানুষ স্থায়ী-অস্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। ব্রিটেনে অবস্থানরত বাঙালির শতকরা ৯৮ শতাংশ সিলেটের। আর মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা শতকরা ৪৩ শতাংশ। এসব প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে তাদের প্রেরিত বৈদেশিক মুদ্রা সুষ্ঠু ও পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। বেশীরভাগ ব্যবহার হচ্ছে অনুৎপাদনশীল খাতে।
এ অঞ্চলের মানুষ এক সময় ধান, লেবু, আনারস ও শাক সবজি উৎপাদন করত। কিন্তু প্রবাসীদের টাকায় বিলাস বহুল দালানকোঠা, মার্কেট, শপিং-মল ইত্যাদি তৈরির ফলে কৃষি জমির অনেকটাই সংকোচিত হচ্ছে। বাড়ি-গাড়ির পেছনে লক্ষ-কোটি টাকা ব্যয় না করে ছোট-খাটো শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে বেকার সমস্যা সমাধান সম্ভব হতো। জেলার প্রকৃত বেকারের সংখ্যা কত তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে ধারনা করা হচ্ছে প্রায় ২০-৩০ হাজার শিক্ষিত বেকার পরিবারের বোঝা হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর পাঠানো অর্থে প্রমোদায়জনের ব্যবস্থা না করে শিল্প কারখানা স্থাপন করে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব।