মান্নার আসল নাম ছিল এ এস এম আসলাম তালুকদার। তিনি সব মিলিয়ে ২৪৫টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ‘বীর সৈনিক’ সিনেমার জন্য ২০০৬ সালে ‘সেরা অভিনেতা’ হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান নায়ক মান্না । এ ছাড়া মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারও পান তিনি।
১৯৬৪ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর এলেঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন মান্না। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করার পরই ১৯৮৪ সালে তিনি প্রথম সিনেমায় আসেন।
মাত্রাতিরিক্ত অশ্লীল ‘ফায়ার’ ছবিটি ছিল তার। তবুও নব্বইয়ের দশকে অশ্লীল সিনেমা নির্মাণের ধারা শুরু হলে যে কয়জন প্রথমেই এর প্রতিবাদ করেছিলেন, তাদের মধ্যে নায়ক মান্না ছিলেন অন্যতম। এসব সিনেমার নির্মাতাদের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত অব্যাহতি আনতে পেরেছিলেন সেই ধারায় ।
দাঙ্গা, লুটতরাজ, তেজী, আম্মাজান, আব্বাজান সিনেমাগুলোয় চমৎকার অভিনয়ের মাধ্যমে জনপ্রিয়তার চূড়া ছুঁয়েছিলেন মান্না। তার প্রথম অভিনীত সিনেমার নাম ‘তওবা’। কিন্তু প্রথম মুক্তি পায় ‘পাগলী’। ১৯৯১ সালে মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত ‘কাসেম মালার প্রেম’ ছবিতে প্রথম একক নায়ক হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪৪ বছর বয়সে মান্না মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর তার জানাজা এফডিসিতে হয়। ২য় জানাজা স্মৃতিসৌধে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দর্শকরা তাকে এতই ভালোবাসে এবং শ্রদ্ধা করে যে ভক্তকুলের ভিড় এবং পুরো ঢাকায় অত্যন্ত জ্যাম থাকায় তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। টাঙ্গাইল জেলায় অবস্থিত তার নিজ গ্রাম এলেঙ্গায় তাকে সমাহিত করা হয়।