ads
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান নোয়াখালী: হাজতখানাকে বিয়ে বাড়ি বানালেন দুই আ.লীগ নেতা! মিউজিক্যাল ফিল্মে সুনেরাহ পিএসসির সাবেক গাড়িচালক আবেদ আলীর ছেলে সিয়াম গ্রেপ্তার বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন ফ্যাসিস্ট আমলে বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি: লুটপাট ভয়াবহ আদানির চুক্তি রাষ্ট্রবিরোধী শিক্ষিকাকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, সাবেক স্বামী গ্রেফতার বিসিসির সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা সোনারগাঁয়ে যুবলীগের নেতা-নেত্রী গ্রেপ্তার জকসু নির্বাচন: ভোট গণনা স্থগিত হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ

আজ বিশ্ব দুগ্ধ দিবস

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১ জুন, ২০২১
  • ৩৪ বার পঠিত

আজ মঙ্গলবার (১ জুন) বিশ্ব দুগ্ধ দিবস। দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের নানা উপকারিতা বিষয়ে জনমানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে এবং খাদ্য হিসেবে দুধের গুরুত্ব তুলে ধরার লক্ষ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) ২০০১ সাল থেকে প্রতিবছর পহেলা জুন ‘বিশ্ব দুগ্ধ দিবস’ পালন করে আসছে। ডেইরি খাতের কার্যক্রম বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে দিবসটি উদযাপিত হয়।

সুস্থতার জন্য দুধ পানের কোন বিকল্প নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, প্রতিদিন একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের ১ গ্লাস বা ২৫০ মিলিলিটার দুধ পান করা উচিত। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে মাথাপিছু দুধের প্রাপ্যতা ১৬৫ মিলিলিটার। তাই বাকি চাহিদা পূরনে আমাদের আমদানি করা গুঁড়ো দুধের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়।

প্রাণিসম্পদ জীবন জীবিকা ও অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির অন্যতম এক উদাহরণ। একে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। বর্তমানে দেশে ক্রমবর্ধমান জিডিপিতে প্রাণিসম্পদের অবদান ৩ দশমিক ২১ শতাংশ। প্রাণিসম্পদ এই উন্নয়নের পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করছে ভেটেরিনারিয়ানরা।

দুধ থেকে বিভিন্ন উপায়ে আধুনিক প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে নানা ধরনের দুগ্ধজাত দ্রব্য উৎপাদন করা হচ্ছে যার সাথে জড়িত আছে বিশাল শ্রমশক্তি। দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রত্যক্ষভাবে ২১ শতাংশ এবং পরোক্ষভাবে ৫০ শতাংশ প্রাণিসম্পদের উপর নির্ভরশীল।

মোট আমিষের ৮ শতাংশ আসে দুগ্ধ সেক্টর থেকে। গত দশ বছরে দেশে দুধ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় পাঁচগুণ। ডেইরি ইন্ডাস্ট্রি এখন দেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্প। এই ইন্ডাস্ট্রি দেশের মানুষের পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনে যে অবদান রাখছে, তা অনস্বীকার্য।

‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’, কবি ভারতচন্দ্র রায়গুনাকর তার ‘ইশ্বরী পাটনী’ কবিতায় দেবীর কাছে বর চাইতে গিয়ে এমনটি বলেছেন। বস্তুত সব বাঙালি মায়েরা এটা কামনা করে থাকেন, তার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে। শৈশবে দুধ পান করেননি এমন মানুষের সংখ্যা বিরল।

আমাদের ছোটবেলায় মা কত আদর করেই না দুধ-ভাত খাওয়াতেন, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে দুধ খাওয়ার সেই অভ্যাসটা আর স্থায়ী হয়ে ওঠেনা। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ মনে করেন ৪-৫ বছর বয়সের পর দুধ আর খাবার হিসেবে দেবার প্রয়োজন নেই। এই বয়সের পর তারা মাছ মাংসের উপর বেশি জোর দিয়ে থাকেন।

কিন্তু দুধ কেবল শিশু খাদ্য নয়, সব বয়সের মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত পুষ্টিসম্পন্ন একটি খাদ্য। দুধ হচ্ছে সুপার ফুড বা সর্বগুণ সম্পন্ন খাবার। খাদ্যের ৬টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান- শর্করা, আমিষ বা প্রোটিন, স্নেহপদার্থ বা ফ্যাট, ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ, খনিজ লবণ এবং পানি আল্লাহ তাআলা দুধের মধ্যে দিয়ে দিয়েছেন।

সারা পৃথিবীতে সুষম খাবার হিসেবে দুধ ও দুধের তৈরি খাবার যেখানে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে, সেখানে আমাদের দেশে কোমল পানীয় বা এনার্জি ড্রিংকসকে প্রমোট করা হয়। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন জাতি গড়ে তুলতে হলে আমাদের এসব কোমল পানীয় বা এনার্জি ড্রিংকসকে পরিহার করে দুধ পানের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

দুধ থেকে দই, মাঠা, ছানা, মাখন, ঘি, পনির, ঘোল, গুড়া দুধ, ননী, লাচ্ছি, মালাই, আইসক্রিম, চকলেটসহ নানা ধরনের উপাদেয় মিষ্টি প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। দুগ্ধজাত পণ্য টক দই প্রোবায়োটিক বা উত্তম ব্যাকটেরিয়ার অন্যতম উৎস। প্রোবায়োটিক নানা ধরনের টিউমার রোধ করে। এছাড়া পনিরে থাকা সালফার, প্রোটিন, স্যাটুরেটেড ফ্যাট, ক্যান্সার রোগীর জন্য খুব উপকারী।

দুধ ব্যালেন্স ফুড বা আদর্শ খাবার। নিয়মিত দুধ পানের অভ্যাস আমাদের সুস্থ, সবল ও নিরোগ জাতিতে পরিণত করবে। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি-উপাদান। আছে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন, কোবাল্ট, কপার, জিংক, আয়োডিন, ফসফরাস, প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-ডি, ভিটামিন বি-১২, নিয়াসিন ও রিবোফ্লাভিন। যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

যেগুলো শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে উন্নত করে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। হজম শক্তি বাড়াতে হালকা গরম দুধ আর মেদ কমাতে ঠান্ডা দুধ উপকারী।

ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি হাড় ও দাঁতের ক্ষয়রোধ করে ও দাঁত মজবুত করে। সিরোটোনিন হিসাবে দুধে থাকা ট্রিপটোফান শরীরে শক্তি সরবরাহ করে। পটাসিয়াম রক্তচাপ বাড়তে দেয় না।

ভিটামিন, মিনারেল ফিটনেস বাড়ায় ও মানসিক চাপ কমায়। ফলে ঘুম ভালো হয়। অনেক মনে করে দুধ খেলে ওজন বাড়ে। তবে এটি মোটেও ঠিক নয়। দুধ খেলে বরং ওজন কমে, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে, রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। দুধ আমাদের হাড়, পেশী, দাঁত ভালো রাখে, ত্বকের উন্নতি করে।

এজন্য বাচ্চা, বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষের দুধ খাওয়া দরকারি। অনেকে দুধে এক ধরনের গন্ধ পান বলে দুধ এড়িয়ে চলেন। এক্ষেত্রে দুধে এলাচি বা দারুচিনি যোগ করে নিলে দুধের স্বাদ ও ঘ্রাণ দুটোই বাড়বে। তবে কিডনি ও ডায়াবেটিসের রোগীদের চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে দুধ খাওয়া উচিত।

গরুর দুধ মা এর দুধের পর সবচেয়ে উপকারী হিসেবে ধরা হয়। ১০০ মিলিলিটার গরুর দুধে ৬৬ ক্যালরি রয়েছে। গরুর দুধে পানি আছে ৮৬.৫ শতাংশ, ল্যাকটোজ ৪.৮ শতাংশ, চর্বি ৪.৫ শতাংশ, প্রোটিন ৩.৫ শতাংশ এবং ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ ০.৭ শতাংশ।

মানুষের খাদ্যতালিকায় দুধ সর্বোচ্চ পুষ্টিমান সম্পন্ন খাবার। এজন্য দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যগুলি কখনই জীবন থেকে বাদ দেওয়া উচিত নয়। দুধের অপরিহার্য উপাদান ল্যাকটোজ, যা দৈহিক গঠন ও মেধাবিকাশে সহায়ক। তাই নিয়মিত দুধ পানের অভ্যাস গড়ে তুলুন, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়ে উঠুন।

সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ওয়ালি উল্লাহ
নির্বাহী সম্পাদক
নিউজ রুম :০২-৯০৩১৬৯৮
মোবাইল: 01727535354, 01758-353660
ই-মেইল: editor@sristybarta.com
© Copyright 2023 - SristyBarta.com
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102