শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: অবশেষে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বিতর্কিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা পারভীন কোন রকম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই বিদায় নিয়েছেন।ভূক্তভোগীরা ইউএনও’র বিদায়বেলায় তার মালামাল বাহী ট্রাকে ব্যাঙ্গ করে এক ডালি মূলা তুলে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।এছাড়াও বিদায়ের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে উপজেলার মাঝিড়া বন্দর, নয়মাইল, মানিকদিপা হিন্দুপাড়া সহ বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করে স্থানীয়রা।
গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলা ক্যাম্পাস ত্যাগ কালে বেতন বিলে স্বাক্ষর নিতে ইউএনও’র গাড়ীর সামনে দাঁড়িয়ে যান উপজেলা পরিষদের চতুর্থ শ্রেণীর এক কর্মচারী (মালী) ইদ্রিস আলী।
উল্লেখ্য, নিয়মিত অফিসে না আসা, অধস্তন কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ মানুষের সাথে দূর্ব্যবহার, দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা, সরকারি মোবাইল ফোন রিসিভ না করা সহ নানা কারণে বিতর্কিত হয়ে পড়েন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা পারভীন। একপর্যায়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ এবং তার গাড়ী অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটে। এমনকি তার অপসারণ চেয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম।
তার অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মি, এমনকি তার অধ:স্তন কর্মকর্তা-কর্মচারিগণও তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এমন পরিস্থিতিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গত ২৯ ডিসেম্বর ইউএনও মাহমুদা পারভীনের বদলীর আদেশ দেয়া হয়।নতুন কর্মস্থাল রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পদে যোগদানের জন্য ইউএনও মাহমুদা পারভীনকে ছাড়পত্র দেন। ছাড়পত্র পাওয়ার পর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো: আশিক খান কে দায়িত্ব বুঝে দিয়ে তল্পিতল্পা গুটিয়ে নেন ইউএনও মাহমুদা পারভীন।
অপরদিকে গত রোববার রাতের আঁধারে বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার একটি রেস্টুরেণ্টে শাজাহানপুর উপজেলা অফিসার্স ক্লাব ইউএনও’কে বিদায় সংবর্ধনা জানালেও উপজেলা পরিষদ বা সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে কেউ সংবর্ধণা দেয়নি। এমনকি তার সাথে কেউ সৌজন্যমূলক দেখা পর্যন্ত করেনি। গোহাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু জানান, ইউএনও’র বিদায়ের বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ অবগত নন। কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি গোপনে বিদায় হয়েছেন। উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হেফাজত আরা মিরা জানান, ইউএনও’র বদলীর বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন। কিন্তু ছাড়পত্রের বিষয়টি তার জানা ছিল না। সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে ট্রাকে মালামাল তুলতে দেখে ইউএনও’র বিদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত হন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দিলীপ কুমার চৌধুরী জানান, জনবিচ্ছিন্ন ইউএনও মাহমুদা পারভীনের বিদায় উপজেলাবাসির জন্য আশির্বাদ। এমন ইউএনও আগে কখনো চোখে পড়েনি।