রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ইয়াহিয়া উল-উলুম কওমী মাদ্রাসার দুই ছাত্রকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছেন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মোস্তাকিম বিল্লাহ।
নির্যাতনের শিকার দুই শিক্ষার্থীর পুরো শরীরে জখমের চিহ্ন। নির্যাতনে তাদের হাত, পা ও পিঠ ফুলে রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষক মোস্তাকিম বিল্লাহ খুবই বদমেজাজি ও উগ্র স্বভাবের। যে কোনও অজুহাতে শিক্ষার্থীদের মারধর করেন তিনি।
শনিবার ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে উঠতে দেরি হওয়ায় হাফেজ বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম মিয়াকে বাঁশের বেত দিয়ে বেধড়ক পেটান ওই শিক্ষক। একই দিন সকাল ৯ টায় তার পানির হিটার অন্য শিক্ষককে দেয়ায় শিশু মাসুদ রানাকেও মারধর করেন মোস্তাকিম বিল্লাহ।
নির্যাতনের শিকার এক শিক্ষার্থী জানান , তাদের ক্রয় করা একটি পানির পাত্র নিতে হুজুর একজনকে পাঠায়। সেটা না দিলে হুজুর তাকে ডেকে নেন এবং মারধর করেন।
এদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষকের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের পরিবার জড়িত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেন। অভিভাবকদের একজন বলেন, ‘শিক্ষার্থীকে এভাবে মারধর করার ঘটনায় অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’
পুলিশ জানায়, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে মোস্তাকিম বিল্লাহকে আটক করা হয়েছে। গংগাচড়া মডেল থানার ওসি সুশান্ত কুমার সরকার বলেন, ‘মাদরাসাটির দুইজন শিক্ষার্থী আমাদের কাছে অভিযোগ করলে শিক্ষার্থীদের অবস্থা দেখে হাসপাতালে ভর্তি করি। এরপর আমরা মাদ্রাসার ওই শিক্ষককে আটক করি।’
এদিকে, রবিবার বিকালে মোস্তাকিম বিল্লাহকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।