রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন দুজন সাংবাদিক। এর মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। শনিবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলা কোর্ট চত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত দুই সাংবাদিক হলেন- দৈনিক বাংলা পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি মইনুল হক মৃধা ও দৈনিক ইনকিলাবের গোয়ালন্দ উপজেলা সংবাদদাতা মোজাম্মেল হক লাল্টু।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৩টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলা কোর্ট চত্বরে বিএনপির নেতাকর্মীদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস এসে থামে। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওই গাড়িতে হামলা চালায়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
কর্মরত সাংবাদিকরা এ ঘটনার ভিডিওধারণ করতে গেলে তাদের ওপর ওপর হামলা চালানো হয়। এতে মইনুল হক মৃধা ও মোজাম্মেল হক লাল্টু আহত হন। তাদের উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে নেওয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মইনুলকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আর মোজাম্মেলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, বিকেলে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দায় নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। এ সময় তিনি তার দলের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং মাইক্রোবাস ভাঙচুরের নিন্দা জানান।
আহত সাংবাদিক মইনুল হক মৃধার স্ত্রী সাবরিন আক্তার বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমার স্বামী হামলার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় আমি থানায় অভিযোগ করবো।
গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বলেন, ভাঙচুরের শিকার মাইক্রোবাসে আমাদের নেতাকর্মী ছিলেন। তারা কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছিলেন। হামলার শিকার হয়ে তারা আর কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেননি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মুন্সি বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এর আগে গোয়ালন্দে এ ধরনের (সাংবাদিককে মারধর) কোনো ঘটনা ঘটেনি। দ্রুত বসে ভুল বোঝাবুঝির সমাধান করা হবে।’
বিজ্ঞাপ