হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমীর আল্লামা আহমদ শফির মৃত্যু অস্বাভাবিক দাবিতে দায়ের করা মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন-পিবিআই।
মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) সকালে, পিবিআই এর বিভাগীয় সুপার ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে তদন্ত দল হাটহাজারী মাদ্রাসায় পৌঁছান। সেখানে হেফাজতে ইসলামের বর্তমান আমীর জুনাইদ বাবুনগরীসহ অন্যান্যদের সাথে কথা বলেন তারা।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা আহমদ শফি। তার এই মৃত্যুকে অস্বাভাবিক দাবি করে আহমদ শফীকে ‘মানসিক নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে’ হত্যার অভিযোগ এনে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন শফির শ্যালক মঈনুদ্দিন। মামলায় ৩৬ জনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই হেফাজতে ইসলামের বর্তমান আমির জুনাইদ বাবুনগরীর অনুসারী।
মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে মাওলানা মো. নাসির মুনিরকে। আর দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতার জন্য আলোচনায় আসা হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় নেতা মীর ইদ্রিস, হাবিব উল্লাহ, আহসান উল্লাহ, জাকারিয়া নোমান ফয়েজীর নামও রয়েছে আসামির তালিকায়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি মামুনুল হক এ বছরের ১১ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাটহাজারী বড় মাদ্রাসায় এসে হেফাজতের বর্তমান আমীর জুনাইদ বাবুনগরীর সাথে বৈঠক করে আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানিকে বহিষ্কারের দাবি করেন আহমদ শফীর কাছে। আহমদ শফী বিক্ষুব্ধদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। আনাস মাদানিকে বহিষ্কার না করলে হেফাজতের তৎকালীন আমীরের চরম ক্ষতি করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় বিক্ষুব্ধদের পক্ষ থেকে। এসময় অসুস্থ আহমদ শফীকে বিক্ষুব্ধরা নানাভাবে বিরক্ত করেন এবং হুমকি দেন। ১৭ সেপ্টেম্বর আহমদ শফীকে হাটহাজারী বড় মাদ্রাসার মহাপরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলেন এবং তার নাকে লাগানো অক্সিজেন নল খুলে ফেলেন বিক্ষুব্ধরা। এসময় তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তার চিকিৎসার জন্য মাদ্রাসার বাইরে আনার চেষ্টা করেও পারা যায়নি।
আদালত মামলা আমলে ঘটনা তদন্তে পিবিআইকে নির্দেশ দেন।