লালমনিরহাট; লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নে নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে তোলা ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকের আবাদি ধানের ফসল। এখন কি খেয়ে বাঁচবেন সেই শঙ্কায় দিন পার করছেন সেখানকার পাঁচ শতাধিক কৃষক।

সোমবার (১৮ এপ্রিল) সরেজমিনে সেখানে গিয়ে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের একই স্থানে পৃথক তিনটি ভাটা ও পাশে পৌরসভার সীমানায় আরও দুইটি ইটভাটা থাকায় মানিকচক ঘাট এলাকার প্রায় তিন শতাধিক কৃষকের ধানের ফসল বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ে গেছে।
এছাড়া মোগলহাটের জুরানপাড়া এলাকায় পৃথক দু’টি ইটভাটায় দুই শতাধিক কৃষকের প্রায় ছয়শ’ একর আবাদি ধানের ফসল পুড়ে গেছে।
কৃষকরা প্রথমে ধানবীজ ও কৃষি কর্মকর্তাদের ওপর দোষারোপ করলেও, পরবর্তীতে জানা যায় এমনটা কোনো রোগের কারণে হয়নি।
ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণেই ধানের এমন ক্ষতি হয়েছে বলে জানান লালমনিরহাট কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নকুল সেন।
এ ঘটনায় ভাটা এলাকার কৃষকরা সংশ্লিষ্ট ভাটা মালিকদের কাছে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের উপস্থিতিতে ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। সেইসাথে ভাটা বন্ধেরও দাবি তোলেন তারা।
এ বিষয়ে মোগলহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যাপারে ভাটার মালিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে।
ভাটা মালিকদের কাছে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান কুলাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলীও।
উল্লেখ্য, লালমনিরহাট জেলায় প্রায় ৩৭টি ইটভাটা রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি অনুমোদিত। বাকিগুলো সব অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, যত্রতত্র ইটভাটা ও কিছুসংখ্যক অসাধু জমির মালিকরা ইটভাটায় মাটি বিক্রি করার দরুন যেমন নিচু হয়ে যাচ্ছে তাদের আবাদি জমি, তেমনই বিনষ্ট হচ্ছে ফসল।