রাশিয়ার হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ইউক্রেনের অনেক জনপদ। যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে প্রাণে বাঁচতে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিচ্ছেন ইউক্রেনের নারী, শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ মানুষেরা। স্কটল্যান্ডে চলছে কনজারভেটিভ দলের বার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন এডিনবারার বাসিন্দা ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভুত এক নারী। মাত্র কয়েক দিনে কীভাবে ইউক্রেনে তাঁর আত্মীয়-স্বজনের জীবন পাল্টে গেছে, তিনি তাঁর বর্ণনা দিলেন।
ব্রিটেনে স্পন্সর পেলে ইউক্রেনের নাগরিকেরা এখন সেই স্পন্সরের মাধ্যমে ব্রিটেনে আসার ভিসা আবেদন করতে পারেন অনলাইনে। আর যাদের কোনো ব্যাক্তি-স্পন্সর নেই, তাঁরা সরাসরি স্কটিশ সরকারের কাছে স্পন্সরশীপ চাইতে পারেন।
ওয়েলস এবং স্কটল্যান্ড একই সাথে সুপার স্পন্সর হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে ব্রিটিশ সরকারের কাছে। বরিস জনসনের সরকার তাতে সম্মতি দিয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনীয়রা স্কটল্যান্ড কিংবা ওয়েলস সরকারের সুপার স্পন্সরশিপ ওর আওতায় ভিসা নিয়ে দ্রুত চলে আসতে পারবেন ব্রিটেনে। এরপর তাদেরকে অস্থায়ী বাসস্থানে রাখা হবে এবং পরে পর্যায়ক্রমে তাদেরকে অপেক্ষাকৃত স্থায়ী আবাসনে স্থানান্তর করা হবে। বরিস জনসন যেদিন সুপার স্পন্সরশীপের অনুমোদন দেন, সেদিন তিনি স্কটিশ কনজারভেটিভ দলের সম্মেলনেও বক্তব্য রাখেন।
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা কেবল ইউক্রেন আর ব্রিটেনকে কাছাকাছি আনেনি, ডাউনিং স্ট্রীটে লকডাউন চলাকালে পার্টির আয়োজন নিয়ে বরিস জনসনকে নিয়ে দলের মধ্যে যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছিল, সেই বিভাজনকেও আপাতত ভুলিয়ে দিয়েছে।
স্কটিশ কনজারভেটিভ লিডার ডগলাস রসের পক্ষে বরিস জনসনকে দলের সম্মেলনে এভাবে উপস্থাপন করার বিষয়টি নয় সপ্তাহ আগেও অকল্পনীয় ছিল। কারণ, তখন বরিস জনসনের পদত্যাগের পক্ষে তিনি প্রকাশ্যে বিবৃতি দেন। তখন মিস্টার রস বলেছিলেন, তাঁর অবস্থান পরিবর্তন হবেনা। কিন্তু ইউক্রেন সংকট তীব্র হয়ে ওঠার প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে ইউ-টার্ন নেন ডগলাস রস।
ইউরোপীয় যুদ্ধের অশান্তির এই সময়ে নিজেদের মধ্যে অস্বস্তিকর এক শান্তি বজায় রেখে এগিয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিলেন দুই টোরি নেতা।