নোয়াখালীর সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) ইলিয়াস শরীফসহ চার জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আবেদন করা হয়েছে। রবিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ নিলুফার সুলতানার আদালতে মামলার আবেদন করা হয়।
মামলার বাদী বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুদা মো. আলমের স্ত্রী খুরশিদা বেগম ওরফে পুস্পা বেগম (৩৫)। বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগটি আমলে নিয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য রেখেছেন বিচারক। নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম মামলার আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আবেদনে যুবদল নেতা আলমকে নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩ সালের ১৫ (২) (৩) ধারায় সাবেক এসপি ইলিয়াস শরীফ (বর্তমানে ডিআইজি), বেগমগঞ্জের সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান শেখ, বেগমগঞ্জ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান সাজিদ এবং ওই থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক জসিম উদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী খুরশিদা বেগম বলেন, ‘অভিযুক্তরা জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদে দায়িত্বে থাকায় মামলার সাহস পাইনি। এখন তারা অন্যত্র বদলি হওয়ায় ঘটনার পাঁচ বছর পর মামলার আবেদন করেছি।’
মামলায় বাদীপক্ষের কৌঁসুলি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহফুজার রহমান ইলিয়াস ও সাইফুর রহমান প্রামানিক।
মামলার আবেদন সূত্রে জানা গেছে, আলম বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি আলাইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ছিলেন। ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন তিনি। সে সময় পুলিশ দাবি করেছিলো, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি পাইপগান, তিনটি ছোরা, পাঁচটি রড ও গ্রিল কাটার যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সে সময় পুলিশ গণমাধ্যমকে জানায়, বুধবার (২৩ আগস্ট, ২০১৭) সন্ধ্যায় গোপন খবরে অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার আসামি ‘ডাকাত আলমকে’ গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া ভাষ্যমতে পুলিশ রাতে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য দাসপাড়া গ্রামের দাসেগো বাগানে অভিযান চালায়। এ সময় আলমের সহযোগীরা পুলিশের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়লে, পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় পালাতে গিয়ে ডাকাত আলম গুলিবিদ্ধ হন। পরে, ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি পাইপগান, তিনটি ছোরা, পাঁচটি রড ও গ্রিল কাটার যন্ত্র জব্দ করা হয়। পরে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে, নিহতের পরিবার সে সময় গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে বলেছিলেন, ২২ আগস্ট সকালে সাদা পোশাকে পুলিশ আলমকে বাড়ি থেকে আটক করে নিয়ে যায় এবং পরদিন বুধবার রাতে তাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করে।
বেগমগঞ্জ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান সাজিদ গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, আলমের বিরুদ্ধে থানায় ১০টি ডাকাতি মামলা ছিল। তিনি সন্ত্রাসী জিসান বাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন।