পদ্মা সেতুর টোল সমন্বয় করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৩ রুটের বাস ভাড়া বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। গত মাসে পদ্মা সেতুর টোল নির্ধারণের পর বিআরটিএ এসব বাসের ভাড়া নির্ধারণ করলো। উদ্বোধনের পর পদ্মা সেতু ব্যবহার করে এসব বাসের চলাচল করার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুন) বিআরটিএর পরিচালক (প্রকৌশল) শীতাংশু শেখর বিশ্বাসের সই করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পদ্মা সেতুর টোল সমন্বয় করে ১৩ রুটের বাসের ভাড়া ১০ থেকে ১১ টাকা বাড়ানো হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা-ভাঙ্গা-মাদারীপুর-বরিশালের ভাড়া ৪১২ টাকা, ঢাকা-রাজৈর-গোপালগঞ্জের ভাড়া ৫০৪ টাকা, ঢাকা-গোপালগঞ্জ-খুলনার ভাড়া ৬৪৯ টাকা, ঢাকা-জাজিরা-শরীয়তপুরের ভাড়া ২১৮ টাকা, ঢাকা-বরিশাল-পিরোজপুরের ভাড়া ৫৩৪ টাকা, ঢাকা-গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট-পিরোজপুরের ভাড়া ৬২৮ টাকা, ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালীর ভাড়া ৫০১ টাকা, ঢাকা-ভাঙ্গা-মাদারীপুরের ভাড়া ৩২৭ টাকা, ঢাকা-গোপালগঞ্জ-খুলনা-সাতক্ষীরার ভাড়া ৬৩৩ টাকা, ঢাকা-ভাঙ্গা-ফরিদপুরের ভাড়া ২৮৮ টাকা, ঢাকা-মাদারীপুর-বরিশাল-ভোলা-চর ফ্যাশনের ভাড়া ৬৫৩ টাকা, ঢাকা-বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু-শরীয়তপুরের ভাড়া ২১৯ টাকা এবং ঢাকা-মাদারীপুর-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটার ভাড়া ৬৯৪ টাকা হবে।
বিআরটিএ কর্মকর্তারা জানান, ঢাকার সায়দাবাদ থেকে শুরু হওয়া বাসের জন্য নতুন ভাড়া প্রযোজ্য হবে। অন্যান্য আন্তঃজেলা টার্মিনালের বাসের জন্য এ ভাড়া কার্যকর হবে না। তবে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারের জন্য সরকার টোল আরোপ শুরু করলে বাস ভাড়া আবারও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া, যদি বাসগুলো সায়দাবাদ ছাড়া অন্য টার্মিনাল ব্যবহার করে, তাহলে নতুন রুট পারমিট নিতে হবে বলেও জানান বিআরটিএ কর্মকর্তারা।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জানায়, আগামী ১ জুলাই থেকে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে টোল আদায় শুরু করা হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদেশ জারি হয়নি।
উল্লেখ্য, পদ্মা নদীর বুকে নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার কোটি টাকায় ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর কাজ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে উদ্বোধন করেছিলেন শেখ হাসিনা। নির্মাণকাজ শেষে আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী এই সেতু উদ্বোধন করবেন। পরদিন ২৬ মে দেশের দীর্ঘতম সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।