চীন থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া সিনোফার্মের টিকা মেডিকেল ও নার্সিং কলেজ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদেরও দেওয়া হবে। শুক্রবার (২৮ মে) রাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, চীন থেকে আসা উপহারের পাঁচ লাখ টিকা আপাতত সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টালের শিক্ষার্থী, নার্সিং শিক্ষার্থী এবং মেডিকেল টেকনোলজি শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে। এখন থেকে তাদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদেরও এ টিকা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পাঁচ লাখ টিকা আড়াই লাখ মানুষকে দেওয়া হবে। দেশে আড়াই লাখ মেডিকেল শিক্ষার্থী নেই। যে কারণে পুলিশ সদস্যদের এই টিকা দেওয়া হবে।
কবে থেকে এই টিকা দেওয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে নাসিমা সুলতানা জানান, এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে দ্রুতই টিকাদান শুরু হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ এপ্রিল দেশে জরুরি ব্যবহারে রাশিয়ার পর চীনের টিকা সিনোভ্যাকের জরুরি অনুমোদন দেয় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এরপর গত ১২ মে বাংলাদেশে এই টিকার পাঁচ লাখ ডোজ উপহার হিসেবে পাঠায় চীন। আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে পাঠানোর কথা দিয়েছে বেইজিং।
এছাড়া সিনোফার্মের দেড় কোটি ডোজ টিকা কিনবে সরকার। এ টিকার প্রতি ডোজ কিনতে খরচ হবে ১০ ডলার করে, যা ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত কোভিশিল্ড টিকার মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ। সিরামের কাছ থেকে প্রতি ডোজ ৪ ডলারে কিনছে বাংলাদেশ। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে চীন থেকে টিকা কিনবে সরকার।
আনুষ্ঠানিকভাবে গত মঙ্গলবার (২৫ মে) থেকে দেশে চীনের টিকার প্রয়োগ শুরু হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষামূলক এ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ঢাকা মেডিকেল কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী অনন্যা সালাম সমতা প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এই গ্রহণ করেন।
এদিন রাজধানীর চারটি সরকারি হাসপাতাল- ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ, মুগদা ও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্টদের পরীক্ষামূলকভাবে এ টিকা প্রদান করা হয়। পরীক্ষামূলক টিকা প্রদানের পর টিকা গ্রহণকারীদের সাত থেকে ১০ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এরপর চীন থেকে পাওয়া উপহারের পাঁচ লাখ ডোজ টিকা আড়াই লাখ মানুষকে দেওয়া হবে।