আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপরে হামলার রেশ কাটতে না কাটতে এবার ৭০ বছরের এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করেছে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টিপু সুলতানের ছোট ভাই হায়দার আলী মিন্টু।
শনিবার সকাল ১১টার দিকে সদরের পিএমখালী ইউনিয়নের উত্তর নয়াপাড়া নাপিতা পাহাড় নামক স্থানে ঘটনাটি ঘটে।
মারধরের শিকার প্রতিবন্ধী নুর আহম্মদ প্রকাশ গুরা মিয়া (৭০) পিএমখালী ইউনিয়নের উত্তর নয়াপাড়া গ্রামের মৃত চাঁদ মিয়ার পুত্র। তিনি একজন শারিরিক প্রতিবন্ধী বলে জানা গেছে।
মারধরের শিকার গুরা মিয়ার স্বজনেরা জানায়, প্রতিবন্ধী হলেও অভাবের কারণে বাধ্য হয়ে বৃদ্ধ গুরা মিয়াকে কাজ করতে হয়। শনিবার সকাল ১১টার গুরা মিয়া প্রতিদিনের ন্যায় আজকেও তার পানের বরজে কাজ করতে যায়। বরজে গেলে ঝিলংজা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান টিপু সুলতানের ছোট ভাই হায়দার আলী মিন্টুসহ অজ্ঞাত ৭-৮ জন আমার বাবার গরু ধানের চারা খেয়ে ফেলেছে দাবি করে বেধড়ক মারধর করেন। মারধরের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থল বৃদ্ধ গুরা মিয়া জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এর পর হায়দার আলী মিন্টুসহ সবাই পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনা জানাজানি হলে বৃদ্ধার পরিবার গিয়ে আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল হতে উদ্ধার করে। পর্বর্তীতে এলাকাবাসী চাঁদা তুলে বৃদ্ধাকে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার শহরে নিয়ে যায়।
আহত গুরা মিয়ার মেয়ে সেলিনা আকতার বলেন, ‘আমাদের কোনো ভাই নেই। সবাই মেয়ে, আর বাবা পা প্রতিবন্ধী। গরু ধানের চারা খাওয়ার ধোয়া তুলে, আমাদের পানের বরজে এসে টিপু চেয়ারম্যানের ভাই মিন্টু বাবাকে কিল-ঘুষি ও জুতাসহ লাথি দিয়ে আহত করেছে। পিঠে ও বুকে ধারালো কিছু দিয়ে একে দেয়ার দাগও দেখা যাচ্ছে। আমরা অশিক্ষিত বিধায় থানা-পুলিশও চিনি না, তারউপর গরিব। এ কারণে আইনি ব্যবস্থার উদ্যোগ এখনো নিতে পারিনি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হায়দার আলী মিন্টু ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিক বার কল করা হয়। রিং হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
তবে, মিন্টুর ভাই ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান বৃদ্ধকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,সে ওই বৃদ্ধ অত্যাচরে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন,আমার ভাই মিন্টু পিএমখালীতে খামার ও চাষাবাদ করেন। সেখানে গরু লাগিয়ে দিয়ে ধানের চারা খাইয়েছেন নুর মুহাম্মদ ওরফে গুরু মিয়া। সেটার প্রতিবাদ করায় আমার ভাইয়ের কর্মচারিকে মারধর করে বৃদ্ধ গুরা মিয়া। এর পর ঘটনাস্থলে গিয়ে রাগের বশে গুরা মিয়াকে কয়েকটি থাপ্পর দেয় মিন্টু।’ এটি নিউজ করার মতো বিষয় নয়।
কক্সবাজার সদর থানার অফিসার ওসি (তদন্ত) মুঠোফোনে জানান, এ ধরনের ঘটনার কোনো অভিযোগ এখনো আসেনি। যদি অভিযোগ পায় তাহলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি অভিযুক্ত হায়দার আলী মিন্টুর নেতৃত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সংস্থার কয়েকজন সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও ওই দিনের ঘটনায় একজন সাংসদের তদবিরে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পান জড়িতরা।
স্থানীয়দের দাবি, চেয়ারম্যান টিপুর ভাই হায়দার আলী মিন্টু ও মিসবাহর অত্যাচারে এক প্রকার অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে তারা। প্রতিদিন তারা কোনো কোনো মানুষের ওপরে কারণে অকারণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সম্প্রতি এক গ্যাস ব্যবসায়ীকে কোনো কারণ ছাড়াই বেধড়ক পিটিয়েছে তারা।
#যুগান্তর