গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় লেখা জামাল হোসেন। এতে ওভাররাইটিং করে কামাল হোসেন লেখা হয়। এরপর নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি টিম সৈয়দপুর পশ্চিম এলাকার মৃত সুরুজ মিয়ার ছেলে ও সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
গতকাল বুধবার (৩ মার্চ) সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করে ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, গাঁজা উদ্ধারের যে ঘটনায় আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে ঘটনার সময়ে আমি দক্ষিণ কোরিয়া ছিলাম। তার ধারণা, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সদর থানার কতিপয় পুলিশের যোগসাজশে একটি পক্ষ তাকে হেনস্থা করতে এমনটা করেছে।
২০০৯ সালের ২১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কুমিল্লার কোতোয়ালী থানার অরন্যপুর এলাকা থেকে সাড়ে ৯ কেজি ভারতীয় জট গাঁজাসহ আলমগীর হোসেন (২৫) ও জামাল হোসেন (৪০) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে জামাল হোসেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চর সৈয়দপুরের সুরুজ মিয়ার ছেলে। এ মামলায় পরবর্তীতে জামাল হোসেনের ২ বছরের সাজা হয়। তবে তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট বের হয়। কারাদণ্ড ও জরিমানার এ পরোয়ানা গত বছর ২০ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আসে। চলতি বছর ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর দেড়টার সময়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার সৈয়দপুর পশ্চিম এলাকার মৃত মো. সুরুজ মিয়ার ছেলে মো. কামাল হোসেনকে তার বাড়ি থেকে এ মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশের এসআই ওয়ালি উল্লাহ ও এসআই মনির।
এ সময়ে কামাল কে তারা বলেন, ওসি সাহেব আপনাকে যেতে বলেছে। কোনও ওয়ারেন্ট আছে কী-না এমন প্রশ্নের জবাবে কোনও কাগজ না দেখিয়ে ওই দুই পুলিশ অফিসার মোবাইল ফোনে কিছু একটা দেখায়।
২২ ফেব্রুয়ারি যুগ্ম দায়রা জজ, ২য় আদালত কুমিল্লা মো. আব্দুল হান্নান এর আদালত এক আদেশে কামাল হোসেনকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। তিনি আদেশে লেখেন, অত্র মামলায় কামাল হোসেন নামের কোনও আসামি নেই। সাজা পরোয়ানা রেজিস্ট্রার এবং স্মারক রেজিস্ট্রার পর্যালোচনায় দেখা যায়, আসামি মো. জামাল হোসেন, পিতা- সুরুজ মিয়া, সাং- চর সৈয়দপুর, থানা+ জেলা- নারায়ণগঞ্জ বরাবরে সাজা পরোয়ানা প্রেরণ করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে প্রেরিত উপ নথি সাজা পরোয়ানা দৃষ্টে দেখা যায়, জামাল এর নাম ওভাররাইটিং করে কামাল হোসেন করা হয়েছে। এছাড়া কামাল হোসেনের আইনজীবীর দেয়া পাসপোর্টেরে ফটোকপি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ঘটনার দিন ও সময়ে কামাল হোসেন বিদেশ ছিলেন।
আদালত আদেশে আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ প্রকৃত আসামি জামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার না করে কেন কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করলো তা তদন্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ সুপার নারায়ণগঞ্জকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের এ আদেশে কামাল হোসেন ২৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান। তিনি বলেন, একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা হয়ে কোনও প্রকার অপরাধে না জড়িয়ে আমি ৯ দিন জেলে ছিলাম। কুচক্রীদের এমন প্রতিহিংসার আগুনে আর কেউ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় আমি সেই কামনা করি।
গতকাল নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কামাল হোসেন জানান, ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় ছিলেন। ফের ২০০৯ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়া যান ফিরেন ২০১৩ সালের ৭ নভেম্বর। দেশে ফিরে এলাকায় জমির ব্যবসা করেন সেই সঙ্গে সমাজ সেবামূলক কাজে জড়িত রয়েছেন। আগামী নির্বাচনে গোগনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি মেম্বার পদে নির্বাচন করবেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ে গোগনগর ইউনিয়ন উন্নয়ন সভায় এমপি সেলিম ওসমান আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জসিম উদ্দিনের নাম ঘোষণা করেন। কামাল হোসেন নিজেও জসিম উদ্দিনকে সমর্থন করেন। এ কারণে প্রতিপক্ষ তার উপর ক্ষুব্ধ হয়।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, আমি এখনও আদালতে কোনও আদেশ পাইনি। পেলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি শাহ জামান এর কাছে এ বিষয়ে জানতে তার মোবাইলে কল দিলে তিনি বলেন, নথিপত্র না দেখে আমি কিছু বলতে পারবো না।