‘ও ভাই তোরে ফায়ার সার্ভিসে চাকরি করতে নিষেধ করেছিলাম, তুই আমার কথা শুনলি না, ও ভাইরে আমার।’ সোমবার (৬ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি কেয়ারের সামনে এভাবেই আহাজারি করছিলেন ফায়ার ফাইটার সালাউদ্দিনের ভাই কামাল উদ্দিন।
নিহত সালাউদ্দিন (৩৮) ফেনী জেলার সদর উপজেলার মাসুমপুর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবু ইউসুফের ছেলে। সালাউদ্দিনের এক ছেলে ও এক মেয়ে।
কুমিল্লায় কর্মরত ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা চার ভাই ও তিন বোন। ভাইদের মধ্যে সালাউদ্দিন ছোট। সে খুব সহজ-সরল ছিল। তাকে বলেছিলাম ফায়ার সার্ভিসে চাকরির কষ্ট আমি বুঝি, তোকে এ চাকরি করতে হবে না। বিদেশ চলে যা, কিন্তু কথা শোনেনি।’
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে আসা মরদেহের মধ্যে আমার ভাইয়ের মরদেহ শনাক্ত হয়েছে। এখন ভাইয়ের মরদেহের অপেক্ষায় আছি। আর পরিবারের সব সদস্যও সালাউদ্দিনকে শেষবারের মতো দেখার জন্য অপেক্ষায় আছেন।
এর আগে, শনিবার (৪ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে ডিপোতে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে সাড়ে ১০টার দিকে বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো ডিপো এলাকা। ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ডিপোতে আমদানি-রফতানির বিভিন্ন মালামালবাহী কনটেইনার ছিল। ডিপোর কনটেইনারে রাসায়নিক দ্রব্য ছিল, বিকট শব্দে সেগুলোতেও বিস্ফোরণ ঘটে। দ্রুত চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় হতাহত হয়েছে বেশি। আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতাল ও বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় রবিবার (৫ জুন) রাত পর্যন্ত ৪৯ জনের মৃতদেহ পাওয়ার তথ্য জানানো হয়। তবে সোমবার (৬ জুন) প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত রাতে জানানো তথ্য সংশোধন করে ৪১ জনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। এদের মধ্যে ৯ ফায়ার সার্ভিস কর্মীর মৃতদেহ রয়েছে। এরমধ্যে আট জনের লাশ শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।