কক্সবাজারের টেকনাফের গহীন অরণ্যে আবারো সংগঠিত হচ্ছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। এতে চরম আতঙ্কের মধ্যে ২১ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার লোক পালাক্রমে পাহারা বসিয়ে পার করছেন রাত।
স্থানীয়রা জানান, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি আরসাসহ ১২ থেকে ১৪টি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অপহরণসহ নানা রকম অপরাধ করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা ডাকাত আবদুল হাকিমের রয়েছে বিশাল বাহিনী। এছাড়া মুন্না বাহিনী, কুদ্দুছ বাহিনী, নবীবাহিনী, আয়াছ বাহিনী, ফয়সল বাহিনী ও সোহেল বাহিনীসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন টেকনাফের পাহাড়ে অবাধে বিচরণ করছে।
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৭ মাসে রোহিঙ্গা শিবিরসহ টেকনাফের বাহারছড়া এলাকায় শতাধিক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। বেশিরভাগ অপহৃতকে মুক্তিপণ দিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে। এসব সিরিজ অপহরণের ঘটনায় মামলা হয়েছে ৭টি। এসব মামলায় ১০ অপহরণকারীকে গ্রেফতারও করা হয়।
সরেজমিন জানা যায়, টেকনাফের দুর্গম পাহাড় তথা বাহারছড়ার নোয়াখালীপাড়ায় গহীন অরণ্যে সন্ত্রাসীদের অবস্থান। তার পাশে রয়েছে মারিশবুনিয়া, ডেইল পাড়া, বাঘগুনা শীলখালী, মাদার বুনিয়া জাহাজপুরা হোয়াক্ষ্যং, হ্নীলা, কোনাপাড়া ও রঙ্গিখালীসহ ২১ গ্রামের ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। তাদের বসতি অধিকাংশ পাহাড়ি অঞ্চলে। হঠাৎ অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এসব এলাকার মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সম্প্রতি ঐ এলাকায় মো. ইলিয়াছ ও সৈয়দ আহমদ নামে স্থানীয় দুইজনকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। এর আগে নোয়াখালীপাড়ার মোহাম্মদ মুবিনুল ও মোহাম্মদ নূর নামে আরো দুইজনকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
বাহারছড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজ উদ্দীন বলেন, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের আক্রমণ ঠেকাতে রাত জেগে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী।
বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, সম্প্রতি মানব পাচার, ইয়াবা পাচার ও অপহরণের মতো ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় গ্রামের হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
এপিবিএন-১৬-এর সহ-অধিনায়ক সহকারী পুলিশ সুপার মুশকির রহমান বলেন, গত ৭ মাসে ৩৮টি অপহরণের ঘটনায় দুইজন বাংলাদেশিসহ ৩৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের কারণে বেশিরভাগ অপহরণের ঘটনা ঘটছে।