চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের এক কলেজ ছাত্রীকে দুই বৃদ্ধের ধর্ষণ এবং তৃতীয় আরেক ব্যক্তির সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে প্রতারণার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা পাল্টা মামলার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ওই বৃদ্ধদের দায়ের করা মামলায় ধর্ষণের শিকার কলেজ ছাত্রী গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রকৃত রহস্য জানতে তদন্ত করছে পুলিশ।
জানা গেছে, গত বছরের ৭ আগস্ট রাতে একা পেয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ওই কলেজ ছাত্রীকে তার নানা সম্পর্কে গ্রাম্য চিকিৎসক আব্দুল কুদ্দুস ধর্ষণ করেন। পরে একই বছরের ১৫ নভেম্বর চাঁদপুর শহরের নাজিরপাড়ার একটি বাসায় নিয়ে এসে ফের আব্দুল কুদ্দুস ও তার আরেক বন্ধু জুনাব আলী ধর্ষণ করেন। আর এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন সুমন পাটোয়ারী নামে আরেক তরুণ। এই সুমন পাটোয়ারী এবং তার সঙ্গীরা সেই ভিডিওর ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় দুই পক্ষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়।
এমন পরিস্থিতিতে বৃদ্ধ জুনাব আলী ওই কলেজ ছাত্রীসহ সুমন পাটোয়ারী এবং রাজু নামে আরেক যুবকের বিরুদ্ধে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় প্রতারণার মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেফতার হন কলেজ ছাত্রী। গ্রেফতারের পর কলেজ ছাত্রীসহ আরো একজন ২২ দিন জেল খাটেন।
ঘটনা এখানে শেষ নয়, এরপর নতুন করে অপর বৃদ্ধ আব্দুল কুদ্দুস একই ঘটনা উল্লেখ করে আরেকটি মামলা করেন আদালতে। বর্তমানে এই মামলা আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই তদন্ত করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর গ্রামের ওই কলেজ ছাত্রীর বাবা না থাকায় তার মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন। করোনার কারণে বাড়িতেই ছিলেন তিনি। আর এমন সুযোগ নিয়ে দূর সর্ম্পকের নানা তাকে ধর্ষণ করেন।
কলেজ ছাত্রীর মা দাবি করেন, তাদের পারিবারিক অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তার মেয়ের চরিত্রহনন করেছেন গ্রাম্য চিকিৎসক আব্দুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, আব্দুল কুদ্দুস এবং জুনাব আলী চক্রের মিথ্যা মামলায় আমার মেয়ে জেল পর্যন্ত খেটেছে। এখন আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।
ওই কলেজ ছাত্রী এবং ওই দুই বৃদ্ধের সঙ্গে বাস্তবে কি ঘটেছিল, নাকি ভিডিও এডিটিং করে কোনো ঘটনা তৈরি করা হয়েছে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যাবে, এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ। শুধু তাই নয়, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
এদিকে পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, বিষয়টি খুব স্পর্শকারত। তাই একটু সময় নিয়ে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।