কাতার বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রতিটি স্তরেই যেন জড়িয়ে বাংলাদেশিরা। আজ একজন চিকিৎসকের কথা জানব, যিনি একটি ভেন্যুর মেডিকেল টিমের দায়িত্ব পাওয়ার অপেক্ষায়। এর আগে স্টেডিয়াম নাইন সেভেন ফোরে ফিফা আরব কাপে চিকিৎসাসেবা দেয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে ডাক্তার আয়েশা পারভীনের। সে অভিজ্ঞতার আলোকে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের সঙ্গী হওয়ার অপেক্ষায় এই বাংলাদেশি চিকিৎসক।
পেশাদারিত্বের কাছে হার মানে আবেগ। ২০২১ আরব কাপে তারকা ফুটবলারদের খেলা দেখেছেন একেবারে কাছ থেকে। দিয়েছেন চিকিৎসা সেবা। কিন্তু ম্যাচ উপভোগের চেয়ে ডাক্তার আয়েশা পারভীনের পরিশ্রম ছিল ফুটবলারদের সুস্থতা নিশ্চিতে।
কাতার বিশ্বকাপের একেকটি স্থাপনায় জড়িয়ে প্রবাসী শ্রমিকদের নাম। এছাড়াও গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে নানাভাবে জড়িয়ে বাংলাদেশিরা। আরব কাপে আয়েশা ছিলেন নাইন সেভেন ফোর স্টেডিয়ামে মেডিকেল টিমের শীর্ষ পর্যায়ে। বিশ্বকাপের জন্য এখনও চূড়ান্ত ডাক না পেলেও প্রশিক্ষণ বা নানা কার্যক্রমে প্রায় নিশ্চিত এবার সেই ভেন্যুতেই থাকছেন এই বাংলাদেশি চিকিৎসক।
কাতার হামাদ জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. আয়েশা পারভীন বলেন, দেড় ঘণ্টার ম্যাচের কাভারেজের জন্য সবমিলিয়ে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা সময় লাগত ম্যাচের আগ থেকে শুরু করে পর পর্যন্ত। স্টেডিয়ামের সবকিছু নিয়ে আমার একটা আইডিয়া হয়ে গেছে। ওটা নিয়েই প্ল্যান করছি।
চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে কাতার গিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন আয়েশা। এখন সেখানেই আছেন। তার স্বামীও চিকিৎসক। এমন অর্জনে তার পরিবার এমনকি দূতাবাসও গর্ব করে।
কাতার হামাদ জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. আয়েশা পারভীন বলেন, সাধারণত এখানে ধারণা হচ্ছে যে বাংলাদেশ থেকে খালি শ্রমিক আসে। কিংবা এই লেভেলের চাকরিই মানুষজন করে থাকে। আমি এটা একটা প্রুভ করতে পারছি যে বিভিন্ন সেক্টরে এর বাইরেও মানুষজন কাজ করছে। আর আমাদেরকে এ চিন্তা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
ডা. আয়েশা পারভীনের স্বামী ডা. মাহফুজ উল করিম বলেন, আমার সহধর্মিনী হিসেবে ভালোই লাগে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে ও যখন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের ডাক্তার হিসেবে শীর্ষ পর্যায়ে কাজ করছে।
কাতারের দোহার বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত জসীম উদ্দিন বলেন, মহামারীর সময়ে আমরা দেখেছি আমাদের চিকিৎসকরা এখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। একইভাবে তারা এবার বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে যেসব কাজ হচ্ছে বা হবে তাতে যুক্ত হচ্ছেন যেনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে একেকজন বাংলাদেশির উচ্ছ্বাস পরীক্ষিত-প্রশ্নাতীত। যখন সেই আসরের সঙ্গে নানা পর্যায়ে জড়িয়ে থাকে লাল সবুজের নাম সেই আসর ঘিরে এবার আবেগ কোন পর্যায়ে থাকবে?