কুমিল্লায় বাসে আগুনের ঘটনায় শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি ১৮ জনের মধ্যে ১৫ জনকেই চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি তিনজনের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। এ ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা উজ্জ্বল মিয়া, পুড়ে যাওয়া মতলব এক্সপ্রেসে ছিলেন তিনিসহ পরিবারের ৮ সদস্য। পরিবারের সবাইকে নিজেই উদ্ধার করেছেন কিন্তু বাঁচানো যায়নি বাবা রফিকুল ইসলামকে। নিজের চোখের সামনেই দেখেছেন বাবাকে পুড়ে যেতে। দুই মেয়ে এবং স্ত্রী এখনো চিকিৎসাধীন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।
ছেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, কারো বাবার লাশ যখন পুড়ে আর সন্তান যখন তাকিয়ে দেখে এর থেকে মর্মান্তিক দৃশ্য আর হতে পারে না। সেই দৃশ্য আমাকে এখন পোড়ায়। যারা ভুক্তভোগী তারাই এর ব্যথা ভোগে।
কুমিল্লায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৮ জন। যাদের মধ্যে বেশির ভাগই আশঙ্কামুক্ত। একজনকে রাখা হয়েছে আইসিইউতে।
চিকিৎসক জানিয়েছেন, আগুনের ঘটনায় দগ্ধদের বেশির ভাগেরই ১০ শতাংশ পুড়ে গেছে। ৬০ ঊর্ধ্ব গোলাম হোসেনের ৩১ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও সার্জারি ইনস্টিটিউটে মেডিকেল অফিসার ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ১৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। বাকি যে চারজন রোগী তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে মতলব এক্সপ্রেসের বাসটি চাঁদপুরের মতলব যাচ্ছিল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে বাসটিতে আগুন ধরে যায়। এতে মারা যান দুজন। দগ্ধ হয়েছেন আরও অন্তত ২২ জন।