বগুড়া: বগুড়ায় অর্থের বিনিময়ে এক নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে খুন হন ১৫ বছর বয়সী কিশোর রাকিব হাসান। এ ঘটনায় নিহতের বন্ধু এক কিশোরসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুন) তাদের আদালতে পাঠানো হলে সজীব ১৬৪ ধারায় হত্যার ঘটনা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এর আগে, ওই দিন সকালে তাদের গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নিজ গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন—গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হিয়াতপুর গ্রামের ১৫ বছর বয়সী একজন কিশোর ও একই এলাকার ২০ বছর বয়সী আহসান হাবীব সজীব।
রোববার (৫ জুন) সকাল ১১টার দিকে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
আকরামুল হোসেন জানান, বগুড়ার সোনাতলার লাহিড়ীপাড়া গ্রামে ৩ জুন সকাল ১১টার দিকে অজ্ঞাত এক কিশোরের লাশ পাওয়া যায়। পরে জানা যায় সেই কিশোরের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হিয়াতপুর গ্রামে। এই ঘটনায় তার ভাই বেলাল হোসেন সোনাতলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, রাকিব ও গ্রেফতার হওয়া দুইজনের বাড়ি একই এলাকায়। এইজন্য তাদের মধ্যে ঘনিষ্ট বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। গত মাসের ৩১ তারিখ গ্রেফতার হওয়া সজীব নিহত রাকিবকে জানায়, ‘এক মেয়েকে টাকার বিনিময়ে শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য সোনাতলার চমরগাছা লাহিড়ীপাড়া এলাকার পতিত জমিতে নিয়ে আসা হবে।’ কথা অনুযায়ী ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে সজীব নিহত রাকিব ও গ্রেফতার আরেক কিশোরকে নিয়ে সোনাতলার ওই এলাকাটিতে যায়।
তিনি জানান, সেখানে পৌঁছে গ্রেফতার সজীব ও নিহত রাকিবের মধ্যে ‘কে আগে শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠ হবে’ এই নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সজীব গ্রেফতার হওয়া ওই কিশোরের কাছে থাকা একটি লাঠি দিয়ে রাকিবের মাথায় আঘাত করে। আঘাত পেয়ে রাকিব মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এলোপাতাড়িভাবে তার মাথায় আরও কয়েকবার আঘাত করা হয়।
ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে সজীব রাকিবকে ডাক দিলে সে সাড়া দেয় না। একপর্যায়ে তিনি রাকিবের গলা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরে লাশটি টেনে হেঁচড়ে একটি ডোবায় ফেলে ও কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন বলেন, কিশোর রাকিবের লাশ উদ্ধারের পর থেকে তদন্তে নামে পিবিআই। পরে স্থানীয়ভাবে নানারকম তথ্য-উপাত্ত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়।