চুয়াডাঙ্গায় বাবার বন্ধুর হাতে শ্লীলতাহানির শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক কিশোরী। বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত লোকমান হোসেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হালসা নওদাপাড়ার জামাল হোসেনের ছেলে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, বাউল গান শুনতে কুষ্টিয়ার হালসা নওদাপাড়া থেকে চুয়াডাঙ্গার মাখালডাঙ্গায় আসেন লোকমান হোসেন। তার সঙ্গে কিশোরীর বাবার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব। বন্ধু ও তার স্ত্রীকে কৌশলে গানের আসরে রেখে লোকমান বাড়িতে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে রাত তিনটার দিকে বারান্দায় ঘুমানো তাদের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ের শ্লীলতাহানির পর ধর্ষণের চেষ্টা চালান তিনি।
বিষয়টি দেখে স্কুলছাত্রীকে রক্ষা করে তার বাবা-মাকে গানের আসর থেকে ডেকে আনেন এক প্রতিবেশী যুবক। তারা বাড়িতে এসে গোয়ালঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় মেয়েকে দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেন। সেখানে শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পর অভিযুক্ত লোকমান পালিয়ে যান।
প্রতিবেশী যুবক বলেন, রাত তিনটার দিকে গানের আসর থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। এ সময় নিজের ঘরের বারান্দায় দেখি লোকমানের সঙ্গে ওই কিশোরী ধস্তাধস্তি করছেন। পরে মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার বাবা-মাকে ডেকে আনি। পাঁচদিন আগেও ওই কিশোরীর হাত ধরে টানাটানি করেছিলেন লোকমান।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি আবু জিহাদ খান বলেন, বাবার বন্ধু লোকমানের শ্লীলতাহানির শিকার হয়ে মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কিছু আলামত উদ্ধার করেছি। অভিযুক্ত লোকমানকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওসি আরো বলেন, লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।