কালবৈশাখীর ঝড়ো হাওয়ার তাণ্ডবে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী, সাদুল্লাপুর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ঝড়ে গাছপালা, ঘরবাড়ি, দোকানপাটের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছচাপা পড়ে ও অটোরিকশা উল্টে ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে অন্তত ২৫ জন।
রবিবার (৪ এপ্রিল) রাত পৌনে ১২টার দিকে জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার রাফিউল আলমের (ইউএনও) পাঠানো প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
এর মধ্যে সর্বশেষ রাত ৯টার দিকে সদর হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিন নারী। তারা হলেন- সদর উপজেলার বাসুদেবপুর গ্রামের আরজিনা (২৮), রিফাইতপুর সরকারতারি গ্রামের শ্রীমতি জোৎসা রানি (৬৫) ও কিশামত মালিবাড়ি টনটনি পাড়ার সাহেরা বেগম (৪০)।
নিহত অন্যরা হলেন- সদর উপজেলার হরিন সিংহা তিনগাছের তল গ্রামের শিশু মনির (৫, পলাশবাড়ি উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের ডাকেরপাড়া গ্রামের জাহানারা বেগম (৫০), মোস্তফাপুর গ্রামের গোফ্ফার মিয়া (৪২) ও মনোহরপুর ইউনিয়নের কুমেদপুর গ্রামের মমতা বেগম (৫৫), ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারি গ্রামের শিমুলি আকতার (২৭) ও এরেন্ডাবাড়ির ডাকাতিয়ার চরের হাফেজ উদ্দিন (৪৪), সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হলদিয়া দয়াপাড়া গ্রামেন ময়না বেগম (৪০) এবং সাদুল্লাপুর উপজেলার আব্দুস সামাদ সর্দার।
এছাড়া, জেলা সদর ছাড়া বাকি ছয় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক মানুষ গাছচাপা পড়ে ও স্থাপনার নিচে পড়ে আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ত্রিশজনের বেশি আহত নারী-পুরুষ জেলা হাসপাতালসহ অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে, গতকাল বিকাল ৩টা থেকে ঝড় হওয়ার পর জেলাজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, বিদ্যুতের খুঁটি, দোকানপাটসহ সরকারি স্থাপনা। নষ্ট হয়েছে আমের মুকুল ও আমন ধানের গাছসহ বিভিন্ন ফসল।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বলেন, নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। ঝরে ভেঙে পড়া গাছ অপসারণে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা কাজ করছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি জেলা প্রশাসক।