জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূকে হত্যার দায়ে দুই ভাসুরসহ ভাসুরপুত্রের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে দেড় লাখ জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ জুন) দুপুরে জামালপুরের সিনিয়র দায়রা জজ আদালতে বিচারক মো. জুলফিকার আলী খান এ দণ্ড দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মাদারগঞ্জের পূর্ব জটিয়ারপাড়া গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে রবিউল কাশেম (৪৮), ভেলামারী গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে আমিনুর রহমান (৩৫) ও পূর্ব জটিয়ারপাড়ার রবিউল কাশেমের ছেলে (পলাতক) নিক্সন প্রঃ লিকসন (২৫)।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নির্মল কান্তি ভদ্র বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ২০০৩ সালে আব্দুস সালামের ছেলে শাহিন মিয়ার সঙ্গে ভেলামারী গ্রামের মো. মজিবর রহমানের মেয়ে শাহিদা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে দুই সন্তান হবার পর ২০০৭ সালে স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে রেখে সৌদি আরব যান শাহিন। সংসারের প্রয়োজনে সৌদি থেকে শাহিন স্ত্রীর নামে টাকা পাঠালে সেই টাকা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভাসুর রবিউল কাশেম, আমিনুর রহমান ও ভাসুরপুত্র নিক্সনের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদের ঘটনা ঘটে। চলমান বিবাদের একপর্যায়ে ২০১০ সালের ২০ জানুয়ারি সকালে শাহিদাকে মারধর করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ওই তিনজন। খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ওই দিনই ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে মর্গে প্রতিবেদন দেখে ২০১০ সালের ১৯ ডিসেম্বর সন্দেহভাজন রবিউল কাশেম, আমিনুর রহমান ও নিক্সনের নামে মাদারগঞ্জ থানায় (মামলা নং-১৩) একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা।
তিনি আরও জানান, ওই মামলা সিনিয়র দায়রা জজ আদালতে বিচারের জন্য এলে বিচারক ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্য নিয়ে ৩০২/৩৪ ধারার অপরাধে আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সোমবার এ রায় দেন। এ সময় পলাতক নিক্সন ছাড়া অন্য দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং নিক্সনের বিরুদ্ধে গ্রেফাতারি পরোয়ানা ইস্যুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।