পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে (৩০) হাত-পা বেঁধে নির্যাতনসহ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে, উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চর মার্গারেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এদিকে এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে শাকিল (২০) নামের একজনকে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। পেশায় টেইলার্স (দর্জি) শাকিল চর মার্গারেটের বাসিন্দা মজিবর শরিফের ছেলে।
নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূকে রাতেই স্পিডবোট যোগে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসাসহ ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শনিবার সকালে তাকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওই গৃহবধূর স্বামী জানান, শুক্রবার রাত ৯টার আগে-পরে তার মোবাইলে বাড়ি থেকে ফোন আসে। পরে ফোনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার কাছে বিষয়টি সন্দেহের হলে তিনি দ্রুত বাড়িতে ছুটে গিয়ে ছেলে-মেয়ের কান্নার শব্দ শুনতে পান। এসময় বাতি বন্ধ ছিলো। টর্চ লাইট মেরে দেখেন, তার স্ত্রীর হাত টেবিলের সঙ্গে বাঁধা। নাক-মুখ-চোখ ওড়না দিয়ে বাঁধা। পরে তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। এরমধ্যে তার স্ত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। অনেক অসুস্থ থাকায় দ্রুত গলাচিপা নিয়ে যান। সেখান থেকে পটুয়াখালী নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বোরকা পরিহিত তিনজন জড়িত ছিলো উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনসহ ধর্ষণ করা হয়। এসময় তারা দেড় লক্ষাধিক টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকালে অসুস্থ ওই নারীকে ভর্তি করা হয়। তার মেডিক্যাল টেষ্ট সম্পন্ন হয়েছে।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী আহম্মেদ বলেন, ভিকটিমের আত্মীয়-স্বজন কেউ এলাকায় নেই। পটুয়াখালী রয়েছেন। ওই নারীর বক্তব্য অনুযায়ী তাকে মারধর এবং ধর্ষণ করা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই নারীকে পটুয়াখালী পাঠানো হয়েছে।