মাদারীপুরে পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ায় শাসন করা কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও গৃহশিক্ষক আহসান হোসেনকে (২২) পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছেন বখাটে ছাত্ররা।
গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে। শিবচর উপজেলার বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের সরকারেরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ওই শিক্ষক লক্ষ্মীপুর জেলার বিল্লাল হোসেনের ছেলে। তিনি ওই গ্রামে তার নানা বাড়ি থেকে পড়াশোনা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত আহসান হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে নানাবাড়িতে থেকে টিউশনি করে নিজের পড়ার খরচ ও সংসারের খরচ জোগান ওই শিক্ষক। মঙ্গলবার ছাত্রদের সুবিধার্থে শিক্ষক আহসান হোসেন দুটি ব্যাচ করে দেন। সেই ব্যাচে যারা বেশি মেধাবী তাদের একটি ব্যাচ করেন। অন্যদিকে যারা একটু কম মেধাবী তাদের আরেকটি ব্যাচ করেন। সেই ব্যাচ করার প্রতি অনীহা প্রকাশ করে কয়েকজন বখাটে ছাত্র।
মঙ্গলবার রাত ১১টার সময় বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের সরকারেরচর গ্রাম থেকে টিউশনি করে নানাবাড়ি ফেরার পথে ওই ছাত্ররা শিক্ষকের ওপর হামলা চালায়। বখাটে ছাত্ররা তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা গিয়ে গুরুতর অবস্থায় শিক্ষক আহসানকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
আহত আহসানের মা সুমি বেগম বলেন, আমার ছেলে ওদের তিন চার বছর ধরে পড়ায়। গত কয়েক দিন ধরে ওরা পড়াশোনা করে না। তাই ওদের শাসন করে। মঙ্গলবার আহসান টিউশনি থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওরা ব্যাপক মারধর করে। এতে ছেলেটি গুরুতর আহত হয়। তারা আমার ছেলের হাতের মোবাইলটিও কেড়ে নেয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
শিবচর থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, এ বিষয়ে ছেলেটির মা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।