টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে ২ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা টিক্কা স্বীকার করেছেন ওই ২ আসামি।
রোববার (২৮ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে দুজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া।
আসামিরা হলেন— শহিদুল ইসলাম টিক্কা (৫০) ও তার এক সহযোগী মো. খোকন (৪০)।
স্থানীয়রা জানান, ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর স্বামী ঢাকার আশুলিয়ায় একটি সোয়েটার কারখানায় চাকরি করেন। তিনি ছুটিতে এসেছেন ১৮ জুলাই। ঘাটাইল উপজেলায় ভাড়া বাসায় থাকেন তারা।
মামলার বিবরণে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা আতাব আলী খানের ছেলে শহিদুল ইসলাম টিক্কা বাড়ির ওই ভাড়া বাড়ির মালিকের নিকট আত্মীয়। তাই টিক্কার নিয়মিত যাতায়াত ছিল বাড়িটিতে। শনিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে গৃহবধূর স্বামীর খোঁজ করতে যান টিক্কা ও তার দুই সহযোগী খোকন (৪০) ও মনির (২৩)। স্বামী বাসায় নেই জানানোর পরও জোর করে টিক্কা কক্ষে প্রবেশ করেন এবং দুই সহযোগীকে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিতে বলেন। এ কথা শোনার পর গৃহবধূ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে টিক্কা তাকে টেনে ধরেন এবং দুই সহযোগী দরজা বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন। কাউকে কিছু জানালে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দিয়ে চলে যান তিনজনই। তবে গৃহবধূ তাৎক্ষণিক বিষয়টি মোবাইল ফোনে তার স্বামীকে জানান। স্বামী বাড়ি এসে ঘটনার বিস্তারিত শুনে রাতে থানায় গিয়ে শহিদুল ইসলাম টিক্কা ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন।
এদিকে, ঘাটাইল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাতেই টিক্কা ও তার সহযোগী মো. খোকনকে গ্রেফতার করে। আরেক সহযোগী মনির পলাতক রয়েছেন।
ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন টিক্কা। সহযোগী খোকনসহ টিক্কাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণে সহযোগিতা করা আরেকজনকেও গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মেডিকেল প্রতিবেদন পেলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।