ads
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান নোয়াখালী: হাজতখানাকে বিয়ে বাড়ি বানালেন দুই আ.লীগ নেতা! মিউজিক্যাল ফিল্মে সুনেরাহ পিএসসির সাবেক গাড়িচালক আবেদ আলীর ছেলে সিয়াম গ্রেপ্তার বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন ফ্যাসিস্ট আমলে বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি: লুটপাট ভয়াবহ আদানির চুক্তি রাষ্ট্রবিরোধী শিক্ষিকাকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা, সাবেক স্বামী গ্রেফতার বিসিসির সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা সোনারগাঁয়ে যুবলীগের নেতা-নেত্রী গ্রেপ্তার জকসু নির্বাচন: ভোট গণনা স্থগিত হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ

ঘুষ ছাড়া কৃষকদের ধান নেন না খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা

রিপোর্টারের নাম
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৩
  • ২৯ বার পঠিত

ঘুষ ছাড়া কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনেন না কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. শহিদুল্লাহ। এমনি অভিযোগ করেছেন কার্ডধারী ভুক্তভোগী কৃষকরা। এ নিয়ে কৃষকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ২৫৭ জন কৃষকের কাছ থেকে ৭৭১ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এখন পর্যন্ত ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ৬০৯ টন। তবে একজন কৃষক (৭৫ মণ) তিন টন করে ধান বিক্রি করতে পারবেন। ধান সংগ্রহ শুরু হয় চলতি বছরের ৭ মে। শেষ হবে ৩১ আগস্ট মাস পর্যন্ত।

কার্ডধারী ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ- উপজেলা খাদ্যগুদামে টনপ্রতি ধান বিক্রি করতে একজন কৃষককে দুই হাজার ১০০ টাকা ঘুষ দিতে হয়। এছাড়া মণপ্রতি অতিরিক্ত হিসেবে দুই কেজি করে ধানের দাম ৬০ টাকা দিতে হয় গুদাম কর্মকর্তা শহিদুল্লাহকে। এতে একজন কৃষকের নামে তিন টন ধান কিনতে ছয় হাজার ৬০০ টাকা করে ঘুষ নিচ্ছেন ওই গুদাম কর্মকর্তা।

এছাড়াও গুদামে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর যোগসাজশে গড়ে তুলেছেন সিন্ডিকেট। এ কারণে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনতে সরকারি নির্দেশনা থাকলেও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান কিনছেন তিনি। যাদের কাছে ঘুষ নিতে পারছেন শুধু তাদেরেই ধান গুদামে ক্রয় করছেন ওই কর্মকর্তা।

কৃষকরা আরও অভিযোগ করেন, প্রান্তিক কৃষকরা নমুনা নিয়ে খাদ্যগুদামে আর্দ্রতা পরীক্ষা করাতে গেলে ধানের মান ভালো নয়, এমন অজুহাতে তাদের ধান ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ সেই ধানই কৃষকের কাছ থেকে না কিনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তা গুদামে সরবরাহ করছেন স্থানীয় একটি চক্র। গুদামে কৃষকের ধান সংগ্রহের মান যাচাইয়ের নামে করা হয় টালবাহানা ও হয়রানি।

লটারিতে নাম উঠা কার্ডধারী কৃষক ও যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তাঁর নামের তিন টন ধান খাদ্যগুদামে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। কিন্তু ধানের মান ভাল না অজুহাতে ফিরিয়ে দেন গুদাম কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ। অথচ কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টনে টনে ধান ক্রয় করেন তিনি।

তার ভাষ্য, একমাস থেকে ঘুরেও নিজের নামে তিন টন ধান ও তার ছেলে নাজমুল ইসলামের নামে তিন টন ধান গুদামে বিক্রি করতে পারেননি তিনি।

নিজের নামের তিন টন ধান খাদ্যগুদামে বিক্রি করেন কার্ডধারী কৃষক শফিউর রহমান। তিনি বলেন, তিন টন ধান গুদামে বিক্রি করতে দুই হাজার ১০০ টাকা ঘুষ দিতে হয় গুদাম কর্মকর্তাকে। এর জায়গায় এক হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছেন তিনি। এ কারণে তার পরিবারের আরও তিনজনের নামের ৯ টন ধান গুদামে বিক্রি করতে পারেননি।

তিনি জানান, বস্তা খালি নেই, গুদামে জায়গা নেই এই বলে বিভিন্ন টালবাহানা ও হয়রানি করেন ওই কর্মকর্তা।

লটারিতে নাম উঠা আরেক কৃষক রিফুল মিয়া বলেন, আমার নামের ধান গুদামে বিক্রি করতে দীর্ঘদিন থেকে ঘুরছি। কিন্তু গুদাম কর্মকর্তা আজ নেবেন, কাল নেবেন, খালি বস্তা (ছালা) নেই বলে অজুহাত ও হয়রানি করেন। তিনি বলেন, গুদাম কর্মকর্তার কাছে কৃষকরা কোনো মানুষ না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে সরকারি গুদামে। এতে টনপ্রতি ৭০০ টাকা ও মণপ্রতি অতিরিক্ত দুই কেজি ধানের দাম ৬০ টাকা করে ঘুষ দিতে হয় গুদাম কর্মকর্তা শহিদুল্লাহকে। এই ঘুষের টাকা না দিলে খাদ্যগুদামে ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। সরকারি খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার কাছে কৃষকরা অসহায়।

তার দাবি, তার নামের তিন টন ধান বিক্রি করতে পারলেও পরিবারের আরও দু’জনের নামের ধান বিক্রি করতে পারেননি। টাকা ঘুষ দিলে ধান নেন, আর ঘুষ না দিলে ফিরিয়ে দেন ওই কর্মকর্তা।

অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে কথা হয় রৌমারী উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মো. শহিদুল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক নয়। কৃষকের সঙ্গে টালবাহানা ও হয়রানি বিষয়ে তিনি বলেন, গুদামে জায়গা খালি নেই। এ কারণে কৃষকের ধান নেওয়া যাচ্ছে না।

রৌমারী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বসুনিয়ার দাবি, তালিকাভুক্ত কৃষক ছাড়া অন্য কারও কাছ থেকে ধান কেনার কোনো সুযোগ নেই। তবে এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ওয়ালি উল্লাহ
নির্বাহী সম্পাদক
নিউজ রুম :০২-৯০৩১৬৯৮
মোবাইল: 01727535354, 01758-353660
ই-মেইল: editor@sristybarta.com
© Copyright 2023 - SristyBarta.com
Develop By : BDiTZone.com
themesba-lates1749691102