চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বিএম কন্টেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে আরও চার শতাধিক মানুষ। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুন) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রেড ক্রিসেন্ট ইয়ুথ চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগের প্রধান ইস্তাকুল ইসলাম।
তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার সামনে সিএমসিএইচ থেকে আটটি মরদেহ বের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৩৫০ জনকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য হাসপাতালে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।”
আহতদের উদ্ধারে মোট ১৯টি গাড়ি এবং ছয়টি এ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে কাজ করছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক হোসেন সিকদার।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট কাজ করছে। ডিপোতে কোনো পানির উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, “এখন পর্যন্ত শতাধিক আহতকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অধিকাংশ ধোঁয়ায় আহত, হালকা পোড়াও আছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতও অনেকে আছেন। তাদেরও চিকিৎসা চলছে।”
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা নুরুল আলম দুলাল গণমাধ্যমকে বলেন, “বিএম ডিপোতে আগুন লাগে রাত সাড়ে ৯টার পর। আগুনে আমাদের চারজন কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএম কন্টেইনার ডিপোর লোডিং পয়েন্টের ভেতরে রাত ৯টার দিকে আগুন লাগে। এরপর রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুন এক কন্টেইনার থেকে অন্য কন্টেইনারে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি কন্টেইনারে রাসায়নিক পদার্থ থাকায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত চার কিলোমিটার এলাকা কেঁপে ওঠে। আশপাশের বাড়ি–ঘরের জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ে।
এ বিষয়ে বিএম কন্টেইনার ডিপোর পরিচালক মুজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “কি কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কন্টেইনার থেকেই আগুন ধরেছে বলে ধারনা করছি।”
নৈতিকতা ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হতাহতদের পাশে থাকবেন জানিয়ে তিনি বলেন, “আহতরা যাতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা পায় সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার আমরা বহন করবো। এ দুর্ঘটনায় যারাই হতাহত হয়েছেন তাদেরকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সকল হতাহতের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া হবে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবাই পাশে থাকুন।”
প্রশাসন যেভাবে সিদ্ধান্ত দিবে সেভাবেই সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।