ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে স্বাগতিক বাংলাদেশ দল ছিল ফেভারিট। খর্বশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজ সব দিক থেকেই পিছিয়ে ছিল। ওয়ানডে সিরিজে উইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশের পর দৃশ্যপট এমনই ছিল।
কিন্তু চট্টগ্রাম টেস্টে দৃশ্যপট পুরোই পাল্টে গেল। মুমিনুলদের অবিশ্বাস্য ও অপ্রত্যাশিত হারের পর ক্রেইগের ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই এখন ফেভারিট মানছেন অনেকে।
তবে সব কিছু ছাপিয়ে এখনও আলোচনায় রয়েছে চট্টগ্রাম টেস্টে পরাজয়ের বিষয়টি। এমন হারের সম্ভাব্য কারণ খুঁজছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
অনেক কারণই চিহ্নিত হয়েছে ইতোমধ্যে। ক্যাচ মিস, দ্বিতীয় ইনিংসে মুমিনুল ছাড়া আর কেউ ভালো ব্যাট করতে না পারা এবং শেষ দিনে স্বাগাতিক স্পিনারদের ধারহীন বোলিংকে এ হারের জন্য দায়ী বলছেন সবাই।
তবে এসব কারণের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে রিভিউ না নেওয়ার বিষয়টি। উইন্ডিজের চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশ অধিনায়ক দুটি রিভিউ নিলে ফল অন্যরকম হতে পারত বলে মনে করেন টাইগার সমর্থকরা।
চট্টগ্রাম টেস্টে দুটি রিভিউ নেননি মুমিনুল। অথচ রিপ্লেতে দেখা গেছে, কাইল মেয়ার্স ও এনক্রুমাহ বোনার নিশ্চিত আউট ছিলেন।
আর মেয়ার্স-বোনার রেকর্ড গড়া জুটিই চট্টগ্রাম টেস্টে সর্বনাশ করে ছেড়েছে বাংলাদেশের।
বিষয়টিতে মুমিনুলের অধিনায়কত্ব নিয়ে সমালোচনা করেছেন কেউ কেউ।
এদিকে ওই দুটি রিভিউ না নেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুমিনুল।
বুধবার বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক বলেন, ‘দেখেন এগুলো তো ইনস্ট্যান্ট ডিসিশন (তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত)। এগুলো নিয়ে আসলে অতো বেশি কথা বলার কিছু নেই। আমার কাছে মনে হয়, ইনস্ট্যান্ট ডিসিশনগুলা মাঝে মাঝে কনফিউশন হয়ে যায়। খুব কম সময় থাকে ডিসিশনগুলো নেওয়ার জন্য। এগুলো নিয়ে আপনাদের অতো বেশি কথা বলার কিছু নেই। আমার কাছে যেটি মনে হয় যে, ইনস্ট্যান্ট ডিসিশনগুলো ওভাবেই নিতে হবে।’
তবে ঘটনা দুটি তাৎক্ষণিক ব্যর্থতা বলে স্বীকার করে নিলেন মুমিনুল।
বললেন, ‘এ রকম পরিস্থিতিতে আমরা পড়িনি কখনও। এখন থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারব। বিশেষ করে প্রেসার সিচুয়েশন কীভাবে হ্যান্ডেল করতে হবে। ওই সিচুয়েশনে কীভাবে বল করতে হবে, কীভাবে ফিল্ডিং সেটআপ করতে হবে– এগুলো হয়তো শিখতে পারব, যা ভবিষ্যতে কাজে দেবে। আমার কাছে মনে হয় উইন্ডিজ খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। আর আমরাও কিছু চান্স মিস করেছি।’
চট্টগ্রাম টেস্টের ভুলগুলো থেকে নিজেদের শুধরে নিয়ে ঢাকা টেস্টে মনোযোগী মুমিনুল।
বাংলাদেশের সাদা জার্সির দলের অধিনায়ক জানালেন, ঢাকায় ম্যাচটি জেতার জন্য সবাই উদগ্রীব হয়ে আছে। এক্সসাইটেড হয়ে আছে। ইনশাআল্লাহ দেখা যাক কি হয়।