চাঁদপুরে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে আড্ডারত দুই যুবক সোমবার (৪ অক্টোবর) রাতে টর্চ লাইটের আলোতে পুলিশ উপস্থিতি দেখে নদীতে ঝাঁপ দেয়। তার মধ্যে একজন নিখোঁজ থাকলেও আজ সকালে কয়লাঘাট এলাকায় ডাকাতিয়া নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
নিহত ওই যুবকের নাম রুবেল হোসেন (১৯)। তিনি পুরানবাজার মেরকাটিজ রোডের হুমায়ুন বেপারীর ছেলে। অটো চালাতেন রুবেল।
চাঁদপুর মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রশিদ জানান, সোমবার মধ্যরাতে ৫নং ঘাটে ডাকাতিয়া নদীতীরে দুই যুবক বসে মাদক সেবন করছিল। নদীর পাড়ে টর্চ লাইটের আলোতে পুলিশ দেখে ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয়। এ সময় রুবেল ডাকাতিয়া নদীতে তলিয়ে গেলেও তার অপর বন্ধু হাসান (১৮) নদী থেকে তীরে উঠে আসেন।
পুরানবাজার ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার লিডার সিদ্দিকুর রহমান জানান, দীর্ঘ ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে নিহত রুবেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চাঁদপুর মডেল থানার ওসি বলেন, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত রুবেলের বন্ধু হাসান জানান, ৫নং কয়লা ঘাটের নদীর পাড়ে দুই বন্ধু বসে সুখ-দুঃখের আলাপ করছিলাম। এ সময় টর্চ লাইটের আলো দেখে পুলিশ ভেবে দুজন নদীতে ঝাঁপ দেয়। রুবেলের শরীরে প্রচণ্ড জ্বর থাকায় সে পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয়।
নিহত রুবেলের পিতা হুমায়ুন বেপারী বলেন, ‘আমার ছেলে মাদকাসক্ত ছিলো না। জানা মতে, রুবেল মাদকের সাথে জড়িত ছিলো না। গত এক সপ্তাহ যাবত সে জ্বরে ভুগছিল। রাতে সে তার বন্ধুর সাথে নদীর পাড়ে আড্ডা দিচ্ছিল। পুলিশের ধাওয়ায় নদীতে ডুবে তার ছেলের মৃত্যু হয়।’
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বলেন, রুবেলের বন্ধু হাসান পুলিশের কাছে গাঁজা সেবনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।