করোনা বিস্তারে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চাঁদপুর। ফলে নতুন করে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে বৃহস্পতিবার (০১ এপ্রিল) জেলা প্রশাসক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।
কিন্তু তারপরও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে এখনও অনেকেই প্রকাশ্যে চলাচল করছেন।
আর স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারী এ ব্যক্তিদের লাগাম টেনে ধরতে চাঁদপুর শহরের বিভিন্নস্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে অভিযান চালাচ্ছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এদিন পৃথক দুটি অভিযানে স্বাস্থ্যবিধি অমান্যকারী ১৭ ব্যক্তিকে আটক করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
এদের মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মানিক, দশজনকে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবযানী কর আরও সাতজনকে আটক করেন। পরে আর্থিক জরিমানা আদায় ও তাদেরকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ জানান, নতুন করে করোনা ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের যে আঠারোটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তা চাঁদপুরে বাস্তবায়ন করতে ইতিমধ্যে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাত আটটার মধ্যে অতি আবশ্যিক ছাড়া অন্য সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং জনসাধারণের চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, চাঁদপুরে করোনার বিস্তার ঠেকাতে এখন থেকে প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি মানুষজনকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত করা হবে গণপরিবহনও।
সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবযানী কর সময় নিউজকে বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি রোধকল্পে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন এবং মাস্ক পরিধানে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে চাঁদপুর সদরের ওয়্যারলেস বাজার সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসময় জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্যারের সদয় নির্দেশনা মোতাবেক জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত চাঁদপুরে সব মিলিয়ে করোনা পজিটিভ-এ আক্রান্ত হয়েছেন, তিনহাজার দুই শ এবং এতে মারা গেছেন ৯৩ জন।