সিলেটে এক প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারের সময় নবজাতকের মাথার অনেকটা জায়গা কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (৯ ডিসেম্বর) সিলেট নগরীর ফেয়ার হেলথ হাসপাতালে ডা. আব্দুস সবুর নামের গাইনি বিভাগের সার্জারি চিকিৎসক সিজার করার সময় এই ঘটনা ঘটে। আরো অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি শিশুর অভিভাবকদের কাছ থেকে লুকানোর চেষ্টা করেছেন অভিযুক্ত ডাক্তার ও ফেয়ার হেলথ হাসপাতালের কর্তব্যরত নার্সরা।
জানা যায়, সিলেট নগরীর মিরাবাজারের বাসিন্দা প্রবাসী ফারুক আহমদের স্ত্রীর শুকরিয়া বেগমের প্রসব ব্যথা উঠলে ডাক্তারের পরামর্শে নগরীর মিরের ময়দানের ফেয়ার হেলথ হাসপাতালে ভর্তি হন। বুধবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে শুকরিয়ার অপারেশন করেন গাইনি বিভাগের সার্জন ডাক্তার আব্দুস সবুর। অপারেশনের সময় তিনি নবজাতকের মাথার পেছন দিকে ছুরি দিয়ে বেশ গভীরভাবে কেটে ফেলেন। এতে শিশুর বেশ রক্তপাত হয়।
জন্মের পর শিশুটিকে অবিরাম কাঁদতে দেখে মা দুধ পান করাতে চাইলে শিশুকে দূরে সরিয়ে রাখেন ডাক্তার ও কর্তব্যরত নার্সরা। তখন একরকম জোর করে শিশুকে মার কাছে নিয়ে আসলে মাথার পেছন দিক রক্তাক্ত দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন শুকরিয়া বেগম।
প্রবাসী ফারুক আহমদের মামাতো ভাই ইজ্জাদুর রহমান মুন্না জানান, প্রথমে বিষয়টি লুকানোর চেষ্টা করেন ডাক্তার ও নার্সরা। পরে দেখে ফেলায় তারা সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, শিশুর মাথার পেছন দিকে বেশ গভীরভাবে অনেকটাই কেটে গেছে। আরেকটু কেটে গেলে হয়তো ওর প্রাণটাই হুমকিতে পড়ে যেতো।
এ বিষয়ে ফেয়ার হেল্থ হাসপাতালে রিসিপশনিস্ট দোলন চৌধুরী বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। ঘটনার পরপরই হাসপাতালের ব্যবস্থাপকসহ ঊর্ধ্বতনরা শিশুকে দেখে গেছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।
মাথা কাটার বিষয়ে গাইনি বিভাগের সার্জারি চিকিৎসক অপারেশনকারী আব্দুস সবুর গণমাধ্যমকে বলেন, এটি কোনো ঘটনাই নয়। এরকম মাঝে মাঝেই ঘটে।
শিশুর অভিভাবককে বিষয়টি লুকানোর অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস সবুর বলেন, এই অভিযোগ সত্য নয়। সামান্যই কেটেছে এবং শিশুটির অবস্থা ভালো। তারপরেও আমরা আলাদা শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে ট্রিটমেন্ট করাচ্ছি।