প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস সর্বপ্রথম চীনেই শনাক্ত হয়। এজন্য অনেকেই চীনকে করোনার উৎপত্তিস্থলও বলে থাকেন। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তদন্তদল এখনো এর উৎসস্থল খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তবে এর মধ্যেই এবার নতুন আরেকটি ভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ছে দেশটিতে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, চীনে ছড়িয়ে পড়া নতুন ভাইরাসটির নাম আফ্রিকান সোয়াইন ফিভার (এএসএফ)।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সিচুয়ান প্রদেশে এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, চীনা কর্তৃপক্ষ এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চেপে রাখতে চাইছে। এ ভাইরাস প্রাথমিকভাবে বহন করে শূকর। পরে তা মানবদেহে ছড়ায়।
খবরে বলা হয়, চীনা কৃষি মন্ত্রণালয় বলেছে, সিচুয়ান চীনের বৃহত্তম শূকর উৎপাদন কেন্দ্র। শূকর বহনকারী এক ট্রাকে ১০টি শূকরের মধ্যে এএসএফ ভাইরাস পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি এরইমধ্যে মারা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে শূকর অবৈধভাবে স্থানান্তর করতে গিয়ে এ রোগ ছড়িয়েছে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে এএসএফ ছড়িয়ে পড়ার দ্বিতীয় ঘটনা এটি। রয়টার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম সিচুয়ান এবং জিয়ানজিয়াং শহরে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে। এক ফার্মে ১২৭ শূকরের মধ্যে ৩৮টিই এএসএফ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। হুবেই প্রদেশে এক ট্রাকে আরও ১০টি শূকর আক্রান্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খবরে যতটা এসেছে বাস্তব পরিস্থিতি এর চেয়েও খারাপ। চিপ নেলিংগার নামের এক বিশ্লেষক বলেছেন, চীন দেখাতে চাচ্ছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে কিন্তু তা নয়।