জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিলে অংশ নেয়ায় ছাত্রদলের এক কর্মীকে শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে শাখা ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল শেষে ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গেরুয়া এলাকা থেকে তাকে তুলে নেয়া হয় বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন। নির্যাতনের শিকার ছাত্রদল কর্মী রাজু হাসান রাজন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘মিছিল শেষ করে ফেরার পথে ছাত্রলীগের কয়েকজন আমাকে গেরুয়া থেকে তুলে নিয়ে মীর মশাররফ হোসেন হলের গেস্টরুমে নিয়ে যান। সেখানে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং নানা ভাবে শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। তাদের মধ্যে একজন কানে চড়-থাপ্পড় মারেন। তারা স্বীকারোক্তি দিতে বলে যে কোনোরকম শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি। তাদের চাপে আমি স্বীকারোক্তি দেই। তারা ভিডিও করে।’ রাজন আরও বলেন, ‘আমার এখন ছাত্রত্ব শেষ হয়নি। এই ক্যাম্পাসেই চলাফেরা করতে হবে। তাই এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।
এর আগে র্যাগিংয়ের শিকার হয়ে একটি কান বধির হয়ে গিয়েছিল। সেই কানটিতেই আজকেও আঘাত পেয়েছি।’ জানা যায়, রাজনকে হলের গেস্টরুমে নিয়ে নির্যাতন করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাগর সিদ্দিকী, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের বিপ্লব হোসেন, ইতিহাস বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের প্রীতম আজাদসহ আরও কয়েকজন।
এ বিষয়ে সাগর সিদ্দিকী বলেন, ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বাধীনতাবিরোধী মতাদর্শসহ নাশকতামূলক নানা কর্মকাণ্ডে রাজন জড়িত থাকায় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে হলের গেস্টরুমে নিয়ে আসেন। তার কাছে তার এই কাজের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সে এসব কাজ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেস্টরুম থেকে বের হয়ে যায়।’ ওই মিছিলে নেতৃত্ব দেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম সৈকত বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কারণে কর্মীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানাই।