রাজশাহী বেপরোয়া কিশোর গ্যাং সদস্যরা হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে অপহরণ করে সানি (১৭) নামে এক কিশোরকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
রোববার রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে থেকে জন্মদিনে সানিকে অপহরণ করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালিয়া মডেল থানার হেতেমখাঁ সাহাজীপাড়া কাফিল উদ্দিন জামে মসজিদের পার্শ্ববর্তী মাকিমের বাড়ির সামনের সড়কে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা সানিকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোমবার সকালে রামেক ফরেনসিক বিভাগে ময়নাতদন্ত শেষে সানির লাশ পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, নিহত সানি নগরীর দড়িখড়বোনা রেলগেট এলাকার রফিকুল ইসলাম পাখির ছেলে। নিহত সানির বাবা পাখি রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি। রোববার রাতেই রফিকুল ইসলাম পাখি বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। এদিকে সোমবার সকালে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী নগরীর রেলগেট এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।
পুলিশ ও সানির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে হেতেমখা সবজিপাড়া ও সাহাজীপাড়ার কিশোর গ্যাং সদস্যরা রেলগেট এলাকায় গিয়ে উপদ্রব করলে সানিসহ তার বন্ধুরা তাদের নিষেধ করেন। ঘটনার পর থেকে সন্ত্রাসীরা সানিসহ তার বন্ধুদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।
এদিকে রোববার ছিল সানির জন্মদিন। বন্ধুদের নিয়ে সন্ধ্যার পর জন্মদিন পালন করে সে। এ সময় সজীব নামে সানির এক বন্ধু পা পিছলে পড়ে আহত হলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় হেতেমখাঁ সাহাজীপাড়ার মামুন বীথির ছেলে মঈন ওরফে আন্নাফ (২০), সোহেলের ছেলে রাহিম (১৯), সালাহউদ্দিনের ছেলে সিফাত (১৯), শফিকের ছেলে শাহী (২১) , আকবরের ছেলে আনিম (১৮) ও বিপ্লবসহ ৯-১০ জন সন্ত্রাসী সানিকে অপহরণ করে। সন্ত্রাসীরা সানিকে হেতেমখাঁ সাহাজীপাড়ায় সড়কের ওপর নিয়ে গিয়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
আরএমপির বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, হত্যাকারীরা কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া সদস্য। সানির বাবা ১০ জনকে আসামি করে রোববার রাতেই থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে রোববার রাত থেকেই অভিযান শুরু করেছে। দ্রুতই তাদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে সানির বাবা রফিকুল ইসলাম পাখি জানান, তার ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় পড়াশোনা নিয়েই ব্যস্ত থাকত। হত্যাকারীরা নগরীর চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তিনি ছেলে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।