গত ১৭ ডিসেম্বর ফেসবুকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছিলেন জাপানি ফুটবলার ইউসুকে কাতো।
ক্লাবটিকে বাঁচাতে স্বদেশি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিত্বদের এগিয়ে আসতে আকুতি জানিয়েছিলেন তিনি।
‘যে কোনো জাপানি প্রতিষ্ঠান যেন স্পনসর হয়ে ক্লাবটিকে ফেডারেশন কাপে খেলতে সহায়তা করে’-এমন আকুতি ছিল তার।
আর কাতোর সেই আকুতিতে সাড়া দিয়েছে এ-উইং তাগুচি কোম্পানি লিমিটেড (এটিসি) নামে জাপানের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ১০ হাজার মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবকে।
আর সেই অর্থ সহায়তায় আসন্ন ফেডারেশন কাপে অংশ নিতে যাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব। আগামী ২৭ ডিসেম্বর মোহামেডানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবেন তারা।
অর্থ সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্লাবের ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমরা জাপানের একজন পৃষ্ঠপোষকের কাছ থেকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার পেয়েছি। আমাদের আরও অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন।’
জাপানের এ-উইং তাগুচি কোম্পানি লিমিটেডের (এটিসি) সব কার্যক্রম চট্টগ্রামে। প্রসঙ্গত ২২ ডিসেম্বর শুরু হবে ঘরোয়া ফুটবল মৌসুম ফেডারেশন কাপে অংশ নেয়া অনিশ্চিত ছিল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রের।
খেলা তো দূরের কথা অর্থাভাবে ক্লাবটি দলই গঠন করতে পারছিল না। বাফুফের নিয়মানুযায়ী নতুন কোনো ক্লাবেও যোগ দিতে পারেননি ক্লাবের ফুটবলাররা।
ক্লাব ও সতীর্থদের এমন দৈন্যদশা দেখে দুশ্চিন্তায় পড়েন দলের অধিনায়ক ইউসুকে কাতো।
মুক্তিযোদ্ধা দল বাঁচাতে নিজের ফেসবুক পেজে জাপানি ভাষায় স্বদেশিদের কাছে ক্লাব বাঁচাতে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন কাতো।
তিনি লেখেন– ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ দলটির সঙ্গে দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার নাম জড়িয়ে আছে। ২০২১ মৌসুম শুরু হবে ২২ ডিসেম্বর। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র আর্থিক সংকটে পড়েছে। টিম ম্যানেজারও স্পন্সর সংগ্রহের জন্য নিদারুণভাবে দৌড়াচ্ছেন। আমি মনে করি, এই ঐতিহাসিক দলকে ভালোবাসা উচিত। এবার দলের অধিনায়ক হিসেবে কিছু করতে চাই। তাই আমি দলের জন্য স্পন্সর খুঁজছি। দলটির টিকে থাকার জন্য টাকার প্রয়োজন। আপনি কি আমাদের সাহায্য করতে পারেন?’