ফেনী নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ২ কেজি ওজনের ৫০টি ইলিশ মাছ। বুধবার রাতে সোনাগাজী বাজারে এ মাছ বিক্রি করেছেন স্থানীয় জেলেরা। ওজন করে দেখা গেছে, ওই ৫০টি ইলিশের মধ্যে ৩৫টি ২ কেজি ১৫০ গ্রাম, অপর ১৫টিও প্রায় দুই কেজি ওজনের। একই জালে ধরা পড়েছে আরও ছোট-বড় প্রায় ২৫ কেজি ইলিশ। সব মিলিয়ে জেলেদের জালে প্রায় ৩ মণ ৫ কেজি ইলিশ ধরা পড়েছে।
পরে মাছগুলো নদীর তীরে আড়তে নিয়ে নিলাম করলে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী নেয়ামত উল্যাহ ও আবদুল মান্নান যৌথভাবে ৩ মণ ৫ কেজি ইলিশ মাছ ১ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেন। তারা বাজারে এনে ৫০টি বড় মাছ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪০০ টাকাসহ সব মাছ ২ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
সোনাগাজী উপজেলার আর্দশগ্রাম এলাকার জেলে মো. নয়ন মিয়াসহ ১০ জন জেলে বুধবার ইলিশ মাছ ধরতে ফেনী নদীর শেষপ্রান্তে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জাল ফেলে বসেছিলেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জোয়ার কমতে থাকায় জালে আচমকা টান মারলে বুঝতে পারেন, বড় কিছু আটকা পড়েছে। পরে জাল টেনে নৌকায় তুলতেই সবাই দেখতে পান, বড় বড় ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে। একই সঙ্গে ছোট ইলিশও ধরা পড়েছে।
আবদুল মান্নান বলেন, রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ ও ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে মাছগুলো বিক্রি করেন। এছাড়া অন্য ইলিশগুলো ৬০০-৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন।
জেলে নয়ন মিয়া বলেন, মাছ ধরা শেষে বিকালের দিকে নদী থেকে ফিরে মাছগুলো স্থানীয় আড়তে বিক্রি করতে নিয়ে যান। সেখানে নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে তিনি মাছগুলো বিক্রি করেছেন।
উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের আগে মাঝেমধ্যে অন্যান্য প্রজাতির বেশ বড় মাছ পাওয়া গেছে। এই মৌসুমে নদীতে একাধিকবার তিন কেজি ও দুই কেজি ওজনের বড় ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে। তবে সামনে আরও বড় বড় মাছ ধরা পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
মৎস্য ব্যবসায়ী নেয়ামত উল্যাহ বলেন, মাছগুলো বিক্রি করার জন্য রাতে পৌর শহরের মাছবাজারে নিয়ে আসেন। বাজারের উৎসুক অনেকে বড় ইলিশ মাছগুলো দেখতে ভিড় করেন। আবার অনেকে শখ করে বেশি দাম হলেও একটা-দুইটা করে মাছ কিনে নেন।